খেলোয়াড়দের রাজনীতি নয়, খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: খেলোয়াড়রা রাজনীতি না করে খেলায় মন দিন

খেলোয়াড়দের রাজনীতি নয়, খেলায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি না হয়ে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। রোববার তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

খেলোয়াড়দের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ—পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।' তিনি আরও যোগ করেন যে, খেলাধুলা এখন শুধু শখ বা বিনোদন নয়, বরং এটি একটি পেশা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে

ক্রীড়াকে পেশা ও স্কুলে আবশ্যিক করার পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা ব্যায়ামের অংশ নয়; বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা লিগ্যাল প্রফেশন যেমন পেশা, ঠিক একইভাবে স্পোর্টসও একটি পেশা।' তিনি বলেন, বাংলাদেশও এই ধারায় এগিয়ে যাবে এবং ক্রীড়াকে স্কুলে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তারেক রহমান বলেন, 'আমাদের স্কুলে যেমন অঙ্ক, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস আবশ্যিক হিসেবে পড়তে হয়, আমরা চাচ্ছি, শিশু যে খেলাটিই পছন্দ করুক, সেটি তাকে খেলতে হবে। সেটাতে তাকে দক্ষ হতে হবে, নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ ইতিহাস, ভূগোল ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি আমরা খেলাধুলাকেও আবশ্যিক করব।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের উদ্যোগ: ক্রীড়াবিদদের বেতনকাঠামোভুক্ত করা

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকার শতাধিক ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় এনেছে। রোববার ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারীদের দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার বাইরে থাকবেন। তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।' এই মন্তব্যে তিনি খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও ঘোষণাগুলো বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।