পিএসএলে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি: ফখর জামানের বিরুদ্ধে লেভেল-৩ অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার মুখে
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের সতীর্থ ফখর জামানের বিরুদ্ধে বলের অবস্থা পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফখরের বিরুদ্ধে লেভেল–৩ মাত্রার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পিএসএলের ইতিহাসে একটি গুরুতর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিস্তারিত ও শাস্তির সম্ভাবনা
পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, একটি মৌসুমে প্রথমবার এমন অপরাধের জন্য ন্যূনতম এক ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা আগামী দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে শুনানি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ফখর জামান অভিযোগ অস্বীকার করে লড়াই করবেন বলে জানা গেছে, যা এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ ও বল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
ঘটনাটি ঘটে করাচি কিংসের রান তাড়ার শেষ ওভারের আগমুহূর্তে। অন-ফিল্ড আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি হারিস রউফের কাছ থেকে বলটি পরীক্ষা করার জন্য নেন। এর আগে বলটি শাহীন শাহ আফ্রিদি ও ফখর জামানের হাতে হাতবদল হয়েছিল। এরপর ফয়সাল দীর্ঘ সময় অন্য আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দুজন মিলে বল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তাদের মতে বলের অবস্থা পরিবর্তন তথা টেম্পারিং করা হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের পর করাচি কিংসকে পাঁচ রান পেনাল্টি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাটসম্যান খুশদিল শাহ ও আজম খানকে নতুন বল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে লাহোর অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদির মন্তব্যে বোঝা গেছে, পেনাল্টি রান দেওয়ার কারণ তার কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি বলেছেন, ‘দেখা যাক, আম্পায়াররা কী বলেন।’
পেনাল্টি রানের প্রভাব ও ম্যাচের ফলাফল
শেষ পর্যন্ত এই পাঁচ রানই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলে। শেষ ওভারে যেখানে দরকার ছিল ১৪ রান, পেনাল্টির পর সমীকরণ নেমে আসে ৯ রানে। এরপর ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে কিংস। প্রথম বলে একটি উইকেট পড়লেও আব্বাস আফ্রিদি হারিস রউফকে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। এই ঘটনা পিএসএলে বল টেম্পারিং নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।



