অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে দ্য হান্ড্রেডের কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন অজি ক্রিকেটাররা
অজি ক্রিকেটাররা দ্য হান্ড্রেডের কোটি টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের জন্য

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে দ্য হান্ড্রেডের কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন

চলতি বছরের আগস্ট মাসে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট দলের বেশ কয়েকজন সদস্য ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের নিলামে অংশগ্রহণ করেননি। কারণ, দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্যাট কামিন্সের সতর্কবার্তা

বুধবার (২৫ মার্চ) প্রকাশিত বিজনেস অব স্পোর্ট পডকাস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এই তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা আর্থিক লোভ ত্যাগ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে কামিন্স সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ক্লাব বনাম দেশের এই বিতর্কে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রাধান্য পেতে পারে।

কামিন্স বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার জন্য ২০ দিনের বিনিময়ে দ্য হান্ড্রেডের পাঁচ লক্ষ পাউন্ডের (৮ কোটি টাকারও বেশি) প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এটি একটি উত্তেজনার বিষয়। এ মুহূর্তে আমাদের খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার জন্য এতটাই আগ্রহী যে তারা এই প্রস্তাবটি ছেড়ে দিতেও রাজি। কিন্তু আমি মনে করি না যে আমরা এটা মেনে নিতে পারি যে পরিস্থিতি চিরকাল এমনই থাকবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আর্থিক চাপ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের প্রভাব

প্যাট কামিন্সের মতো যেসব ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলেন, তাদের আর্থিক ক্ষতি ক্রিকেট বোর্ড পুষিয়ে দেয়। তবে এই ব্যবস্থায় খেলোয়াড়দের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে, বোর্ডের চুক্তিতে নেই এমন ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কম খেলেই বেশি আয় করতে পারেন। কামিন্স এই দিকটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভবিষ্যতে বেছে বেছে খেলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে এই তারকা পেসার বলেন, ‘অবশ্যই, আমিও নির্দিষ্ট সিরিজগুলোকে অগ্রাধিকার দেব। আমি এখনও তিন ফরম্যাটেই অবশ্য খেলতে খুব আগ্রহী। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি।’

এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে ক্লাব এবং দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের এই সিদ্ধান্ত টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে, কিন্তু প্যাট কামিন্সের সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আকর্ষণ আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশ দলের জন্য এই টেস্ট সিরিজটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।