ব্রাজিলের পরাজয়েও আনচেলত্তির সন্তুষ্টি: নতুনদের পারফরম্যান্সে আশাবাদী কোচ
ব্রাজিল ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সময়টি মোটেও ভালো যাচ্ছে না। শেষ চারটি ম্যাচে তারা মাত্র একটিতে জয়লাভ করতে পেরেছে। সবশেষ প্রীতি ম্যাচে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষেও ব্রাজিল জয়ের দেখা পায়নি, বরং ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। তবে এই পরাজয়ের পরও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি কিছুটা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হচ্ছে।
আংশিক সন্তুষ্টির কারণ
আনচেলত্তি তার সন্তুষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘হারলে কেউ খুশি থাকে না। তাই বলতে পারেন, এই ফলাফলে আমি অর্ধেক সন্তুষ্ট। এখনো অনেক পথ বাকি, তবে ইতিবাচক কারণও আছে।’ তার মতে, এই ম্যাচে ব্রাজিল দলের কিছু ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আশা
আনচেলত্তির এই সন্তুষ্টির মূল কারণ হলো নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইগর থিয়াগো ও দানিলো ভালো খেলেছেন, পাশাপাশি গাব্রিয়েল সারা ও ইবানেজও নিজেদের ভূমিকা সফলভাবে পালন করেছেন। এই পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল বাছাই করা তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আনচেলত্তি বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল বাছাই করা আমার জন্য বেশ কঠিন হয়ে যাবে।’
ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার পারফরম্যান্স
এই ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়া এই বছর মিলে ৩০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচে দুজনই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আনচেলত্তি মন্তব্য করেছেন, ‘আমার চোখে কোনো ত্রুটি নেই। রাফিনিয়া ভালো খেলেছে। ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের জন্য সবসময় বিপজ্জনক। গোল না করলেও সে যেকোনো সময় গোল করতে পারে।’ তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি এই দুই তারকা খেলোয়াড়ের উপর এখনো আস্থা রাখছেন।
সমর্থকদের ‘নেইমার’ চিৎকারে বিরক্তি
একটি বিষয়ে আনচেলত্তি কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। ৬৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে ব্রাজিল সমর্থকরা ‘নেইমার, নেইমার’ বলে চিৎকার করেছেন, যা এই ইতালীয় কোচের পছন্দ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেছেন যে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়েই সমর্থকদের মাতামাতি করা উচিত। আনচেলত্তি বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু যারা দলে আছেন এবং খেলছেন তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত।’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
ব্রাজিল এরপর ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সকালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর আগে ব্রাজিলের শেষ প্রীতি ম্যাচ হিসেবে গণ্য হবে। আনচেলত্তি এবং তার দল এই ম্যাচকে বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং দল গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এই ম্যাচের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ব্রাজিলের পরাজয় সত্ত্বেও আনচেলত্তির সন্তুষ্টি দলের ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। নতুন প্রতিভাদের উত্থান এবং দলের সামগ্রিক উন্নতির সম্ভাবনা তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। বিশ্বকাপের আগে এই প্রীতি ম্যাচগুলো ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



