এমবাপের আবেগঘন স্বীকারোক্তি: নেইমার ছাড়া বিশ্বকাপ কল্পনাই অসম্ভব
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক কিংবা নিরপেক্ষ ফুটবল প্রেমীদের মনের গহিনে যে হাহাকার, ঠিক সেই সুরই যেন প্রতিধ্বনিত হলো কিলিয়ান এমবাপের কণ্ঠে। নেইমার জুনিয়রকে ছাড়া আগামী বিশ্বকাপের ক্যানভাস কল্পনা করাও যেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের কাছে অসম্ভব। এমবাপের দৃঢ় বিশ্বাস, সব বাধা পেরিয়ে সেলেসাওদের এই প্রাণভ্রমরা ঠিকই বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবেন।
ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স: প্রীতি ম্যাচে নেই নেইমার
বস্টনে বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স। প্রীতি ম্যাচ হলেও ফুটবল বিশ্বের নজর এই মহারণের দিকে। তবে মাঠের লড়াইয়ে নেই নেইমার। ২০২৩ সালের সেই অভিশপ্ত অক্টোবরের পর আর হলুদ জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্বকাপ ভাগ্য এখনো ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়। সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস প্রমাণ করলেই কেবল মিলবে জাতীয় দলের টিকিট।
ভিনিসিউস জুনিয়র ও নেইমার প্রসঙ্গে এমবাপের মন্তব্য
নেইমার না থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিউস জুনিয়রকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছেন এমবাপে। তবে ক্লাবের সেই বিধ্বংসী ভিনি আর জাতীয় দলের ভিনির মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, তা নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা কম নয়। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিউস ও নেইমারকে নিয়ে এমবাপের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বেশ স্পষ্টভাবেই নিজের মত ব্যক্ত করেন। ভিনিসিউসের প্রতি এমবাপের পরামর্শ হলো—জাতীয় দলের হয়ে তাকে এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে।
তবে নেইমার প্রসঙ্গে আসতেই এমবাপের কণ্ঠে ঝরল কেবলই মুগ্ধতা। তিনি বলেন, “ভিনিকে পারফর্ম করতে হবে, কিন্তু নেইমার তো নেইমারই। সে এক অসাধারণ জাদুকর। বিশ্বকাপ হলো মহাতারকাদের মেলা, আর আমার দৃষ্টিতে নেইমার সর্বকালের সেরাদের একজন।”
নেইমারের প্রতি এমবাপের গভীর শ্রদ্ধা
সাবেক পিএসজি সতীর্থের প্রতি আবেগঘন কণ্ঠে এমবাপে আরও যোগ করেন, “নেইমারকে ছাড়া আমি বিশ্বকাপের কথা ভাবতেই পারি না। তবে শেষ পর্যন্ত আমি তো আমার সাবেক গুরু আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেতে পারি না। কোচের সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।”
সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে নেইমারের পায়ের জাদু আবারও দেখা যাচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। এমবাপে মনে করেন, বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠতে নেইমার ঠিকই নিজেকে গুছিয়ে নেবেন। তার ভাষায়, “আমি নেইমারের সাথে খেলেছি, তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সে এমন একজন ফুটবলার যে এক নিমেষেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমি তাকে চিনি, সে ঠিকই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে মাঠে ফিরবে।”
এই মন্তব্যগুলো ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের প্রাক্কালে নেইমারের অনুপস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমবাপের এই আবেগঘন স্বীকারোক্তি ফুটবলপ্রেমীদের মনে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আশা জাগিয়ে তুলছে।



