আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন চেয়ারম্যান: আর্যমান বিরলার উত্থান
ভারতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি দল ও বর্তমান আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু একটি বড় চুক্তির মাধ্যমে নতুন মালিক পেয়েছে। ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়াম দলটি কিনে নিয়েছে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দলের বর্তমান মালিক ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি নিশ্চিত করেছে।
কনসোর্টিয়ামের সদস্য ও অনুমোদন প্রক্রিয়া
এই কনসোর্টিয়ামে আদিত্য বিরলা গ্রুপ, ব্ল্যাকস্টোনের প্রাইভেট ইকুইটি ইউনিট, ডেভিড ব্লিটজারের বোল্ট ভেঞ্চারস এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এবং বিসিসিআই এটি অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন কনসোর্টিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেবে। একই সঙ্গে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে আর্যমান বিরলা দলের নতুন চেয়ারম্যান হবেন।
আর্যমান বিরলার ক্রিকেট ও শিক্ষাজীবন
আর্যমান বিরলা হলেন ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি কুমার মাঙ্গালাম বিরলার ছেলে। তিনি একসময় পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ১৭ বছর বয়সে মুম্বাই ছেড়ে মধ্যপ্রদেশে ক্রিকেট খেলতে যান। ইংল্যান্ডেও তিনি ক্লাব ক্রিকেট খেলেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি খেলেন এবং তার আগে সি কে নাইডু ট্রফিতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন, যেখানে তিনি ৬০২ রান ও তিনটি সেঞ্চুরি করেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে বেঙ্গলের বিপক্ষে তার প্রথম সেঞ্চুরি আসে।
ক্রিকেট থেকে বিরতি ও ব্যবসায়িক সাফল্য
সেই সময় তিনি বর্তমান আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে একই দলে খেলেছিলেন। ২০১৮ সালে রাজস্থান রয়্যালস তাকে দলে নিলেও তিনি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ২০১৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন এবং মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন। ক্রিকেট ছাড়ার পর তিনি ব্যবসায় মন দেন এবং এখন আদিত্য বিরলা গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং গ্লোবাল ফাইন্যান্সে মাস্টার্সও সম্পন্ন করেছেন।
নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ সাত বছর পর তিনি আবার ক্রিকেটে ফিরছেন, তবে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নয়, নেতৃত্বের ভূমিকায়। আর্যমান বিরলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আরসিবির ভবিষ্যৎ গড়ার এই অংশীদারিত্বে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা একসঙ্গে মাঠে, সমাজে এবং সমর্থকদের জন্য সাহসীভাবে এগিয়ে যেতে চাই।’ এই পদক্ষেপ আইপিএল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।



