১৮ বছর আগের চুক্তি কোটিপতি বানালো শেন ওয়ার্নের পরিবারকে
ওয়ার্নের চুক্তি পরিবারকে কোটিপতি বানালো

শেন ওয়ার্নের দূরদর্শী চুক্তি পরিবারকে কোটিপতি বানালো

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন শুধু ক্রিকেট মাঠেই নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ছিলেন অত্যন্ত সুচতুর। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে করা একটি বিশেষ চুক্তি তার মৃত্যুর পর তার পরিবারকে কোটিপতি বানিয়ে দিয়েছে।

চুক্তির বিশেষ শর্ত

ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে চুক্তি করার সময় একটি অনন্য শর্ত রেখেছিলেন। তিনি প্রতিটি মৌসুম খেলার বিনিময়ে দলের মালিকানায় ০.৭৫ শতাংশ করে অংশ পাবেন। এক সাক্ষাৎকারে ওয়ার্ন বলেছিলেন, ‘আমার চুক্তির অংশ হিসেবে তারা আমাকে অধিনায়ক, কোচ ও দলের সব কিছু পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল, আমি যেভাবে চাই সেভাবে। আমিই ছিলাম সব কিছু।’

মালিকানার অংশ বৃদ্ধি

ওয়ার্ন মোট চারটি মৌসুম রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেছেন। ২০০৮ সালের প্রথম আসরেই দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। চার মৌসুম মিলিয়ে তার মালিকানার অংশ দাঁড়িয়েছে মোট ৩ শতাংশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্রি ও আর্থিক মূল্য

সম্প্রতি রাজস্থান রয়্যালস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে ১৬৩ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। এই হিসাবে ওয়ার্নের ৩ শতাংশ অংশের মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মুদ্রায় তা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ডলার।

পরিবারের জন্য সুযোগ

২০২৬ আইপিএল মৌসুম শেষ হওয়ার পর ওয়ার্নের পরিবার এই অংশ বিক্রি করে অর্থ তুলে নিতে পারবেন। তবে এর জন্য ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের অনুমোদন লাগবে।

দলের মূল্য বৃদ্ধি

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মাত্র ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে রাজস্থান রয়্যালস কিনেছিল মনোজ বাদালের নেতৃত্বাধীন ইমার্জিং মিডিয়া। সেই দলের মূল্য আজ কতটা বেড়েছে তা এই বিক্রির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। আর তাতেই ওয়ার্নের প্রাপ্তির ভাগটাও ফুলে ফেঁপে উঠেছে রীতিমতো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওয়ার্নের উত্তরাধিকার

ওয়ার্ন নিজে অবশ্য এই অর্জনের খবর দেখে যেতে পারলেন না। ২০২২ সালে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। তবে ১৮ বছর আগে করা তার সেই দূরদর্শী চুক্তি তার পরিবারের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়ে গেছে, যার বদৌলতে তার পরিবার এখন কোটিপতি বনে গেছে রীতিমতো।