জিনেদিন জিদান ফ্রান্স দলের কোচ হতে চলেছেন, এমবাপ্পের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা
ফরাসি ফুটবল জগতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্পোর্টস মিডিয়া ইএসপিএন সূত্রে জানা গেছে, কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান এবার কিলিয়ান এমবাপ্পের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুম শেষ হওয়ার পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলে যোগ দেবেন। বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর তিনি দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জিদানের মৌখিক সম্মতি ও দিদিয়ের দেশঁয়ের উত্তরসূরিত্ব
৫৩ বছর বয়সী জিদান ইতিমধ্যে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনকে মৌখিকভাবে তার সম্মতি জানিয়েছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০১২ সাল থেকে ফ্রান্স দলের কোচের পদে অধিষ্ঠিত দিদিয়ের দেশঁয়ের স্থলাভিষিক্ত হবেন এই প্রাক্তন তারকা। এটি ফরাসি ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড় এখন কোচ হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিতে আসছেন।
রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের সাফল্যমণ্ডিত কোচিং ক্যারিয়ার
জিনেদিন জিদানের কোচিং ক্যারিয়ার অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম দফায় ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি দলটিকে টানা তিন বার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন, যা একটি অসাধারণ রেকর্ড। এরপর ২০১৯ সালে আবারও দায়িত্ব নিয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত কোচ হিসেবে থাকাকালীন তিনি একটি লা লিগা শিরোপাও জিতেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা ফ্রান্স দলের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
খেলোয়াড় হিসেবে জিদানের অবিস্মরণীয় কৃতিত্ব
খেলোয়াড় হিসেবে জিনেদিন জিদান ফ্রান্স দলেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন এবং সে বছর ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮, ২০০০ ও ২০০৩ সালে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপে তিনি ফ্রান্সকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, যদিও ইতালির কাছে পরাজয়ের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার সমাপ্ত হয়। ঐতিহাসিক সেই ফাইনালে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার কারণে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
জিদানের এই নিযুক্তি ফ্রান্স ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার নেতৃত্বে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকা খেলোয়াড়রা আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বে এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে আগামী দিনগুলোতে।



