নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার আইরিশ ক্রিকেটারদের
নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার

নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকার আইরিশ ক্রিকেটারদের

আগস্ট মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা থাকলেও নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে একাধিক আইরিশ ক্রিকেটার খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই সিরিজ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে নারীদের খেলাধুলা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি।

আইরিশ ক্রিকেট বোর্ডের অপেক্ষমান সিদ্ধান্ত

আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, পুরো বিষয়টি ক্রিকেটারদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় নারী ক্রিকেটারদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, কারণ বোর্ডের ৪০ শতাংশ সদস্য নারী।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের নালিশ

বিগত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো আফগানিস্তান ক্রিকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে নালিশ জানিয়ে এসেছে। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে না খেলার আহ্বান জানানো হয়েছিল, মূলত নারী ক্রিকেট দলকে খেলার সুযোগ না দেওয়ার কারণে। তালেবান শাসনে আফগানিস্তানে নারী খেলোয়াড়দের অনেকেই দেশ ছেড়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা ও বোর্ডের অবস্থান

আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর গ্রেম ওয়েস্ট জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা চাইলে সরে দাঁড়াতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের কথা হয়েছে। ওরা নিজেদের কথা বলেছে। ওদের বলেছি, কারও যদি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে ইচ্ছা না হয়, তাহলে সে বাইরে থাকতে পারে। এতে কোনও সমস্যা নেই।’ অন্যদিকে, আইরিশ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী সারা কিন বলেছেন, ‘আমরা রাজি হয়েছি ঠিকই, কিন্তু একটা অস্বস্তি রয়েছে। যে দেশে নারীদের খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার কোনও অধিকার নেই, সেই দেশের বিপক্ষে অনেকে খেলতে চায় না। আমাদের বোর্ডের ৪০ শতাংশ সদস্য নারী। তাই বিষয়টা হালকা ভাবে নিলে হবে না।’

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানবাধিকার ও ক্রীড়ার নীতির মধ্যে সংঘাতকে তুলে ধরছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দলগুলোর জন্যও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।