বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: ব্যবসায়ী জিডি করেছেন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. সালাহউদ্দিন ভূঞা নামের এক ব্যবসায়ী রমনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এই ঘটনায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জিডির বিবরণ ও অভিযোগের মূল বক্তব্য
জিডির তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সালের ৪ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে আসিফ আকবরের ব্যবসায়িক অনুরোধে একটি বড় লেনদেন সম্পন্ন হয়। সালাহউদ্দিন ভূঞা জানান, ডা. কাজী মাজহারুল ইসলাম এবং পিজি হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. শাকিল আহমেদের উপস্থিতিতে আসিফ আকবরকে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়, বাকি অংশ সরাসরি নগদে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
অভিযোগকারীর দাবি ও আইনি পদক্ষেপ
সালাহউদ্দিন ভূঞার দাবি, লেনদেনের পর আসিফ আকবর তাকে মাত্র ৩৯ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। অবশিষ্ট ২ কোটি ৫১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা অদ্যাবধি পরিশোধ করেননি। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসিফ আকবর দীর্ঘ সময় ধরে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সালাহউদ্দিন ভূঞা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এনেছেন। রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর করা এই আবেদনে ডিউটি অফিসার হিসেবে আবু হানিফ স্বাক্ষর করেছেন। ডায়েরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) প্রদীপ চন্দ্র রায় ও মোহাম্মদ রাহাত খানকে।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
বিসিবি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর আর্থিক অভিযোগ ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আসিফ আকবর লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় বিসিবির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, এবং আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এই অভিযোগের পটভূমিতে ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।



