ফিফা-ইউটিউব চুক্তি: ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার সদরদপ্তরে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং বিশ্বখ্যাত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্বধারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইউটিউবে সরাসরি ম্যাচের অংশবিশেষ দেখাতে পারবে, যা বিশ্বজুড়ে তরুণ দর্শকদের কাছে সহজেই পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গেম-চেঞ্জিং পার্টনারশিপ হিসেবে স্বীকৃতি
ফিফা এই চুক্তিকে একটি ‘গেম-চেঞ্জিং পার্টনারশিপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সম্প্রচারে উৎসাহিত করা হবে স্বত্বধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। মূলত এটি হবে একধরনের ‘টিজার’ কৌশল, যা তরুণ দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে পরে টেলিভিশনের মতো প্রচলিত মাধ্যমে পুরো ম্যাচ দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে।
ফিফা আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘সম্প্রচারস্বত্বধারীরা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে বাছাই করা কিছু ম্যাচ পুরোটা সরাসরি দেখাতে পারবে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচ কোথায় দেখা যাবে, সেটিও প্রচার করা সম্ভব হবে।’
চুক্তির মূল্য ও অতীত আর্কাইভ শেয়ার
এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কত, তা প্রকাশ করেনি ফিফা। তবে সংস্থাটি ইউটিউবে নিজেদের বিশ্বকাপ আর্কাইভের কিছু অংশ শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফিফার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘যার মধ্যে থাকবে অতীতের ম্যাচ ও ফুটবল ইতিহাসের আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত।’ এটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতি ও নতুন উদ্যোগ
২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফিফার নিম্নস্তরের স্পন্সর ছিল ইউটিউব। সে সময়ের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ক্রিয়েটররা মাঠে উপস্থিত থেকে ফিফা বিশ্বকাপের নেপথ্যের দারুণ সব মুহূর্ত ধারণ করবে।’ এবারের চুক্তি সেই ধারাবাহিকতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী বিশ্বকাপে মোট ম্যাচসংখ্যা হবে ১০৪। এই টুর্নামেন্টে ‘বিশ্বজুড়ে ইউটিউব ক্রিয়েটরদের অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার’ দেবে ফিফা, যা ডিজিটাল যুগে ফুটবলের সম্প্রচারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
