রেফারিদের বকেয়া সম্মানি ২ কোটি টাকা, বাফুফের পরিশোধ মাত্র ৫ লাখ
বাংলাদেশের ফুটবল রেফারি ও সহকারী রেফারিরা তাদের প্রাপ্য সম্মানির জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনার বিপরীতে তাদের প্রায় দুই কোটি টাকার সম্মানি বকেয়া রয়েছে। সামনে ঈদ উৎসব, কিন্তু এই অর্থ পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই, যা তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে।
বাফুফের অপ্রতুল পরিশোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সম্প্রতি রেফারিদের সম্মানির জন্য মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে, যা মোট বকেয়া দুই কোটি টাকার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। ফলে অধিকাংশ রেফারিই তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন। এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি বাফুফের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জানা গেছে, পাওনা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে বাফুফের কো-চেয়ারম্যান সুজিত ব্যানার্জি ও ফেডারেশনের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মোস্তফার মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর বাফুফে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন শাহিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
রেফারিদের ক্ষোভ ও পেশাগত সংকট
রেফারিরা অভিযোগ করেন যে, মাঠে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ম্যাচের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তারা বছরের পর বছর সম্মানির জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদের আগে পাওনা অর্থ না পাওয়ায় অনেক রেফারি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ রেফারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা মাঠে শত চাপের মধ্যে ম্যাচ পরিচালনা করি। খেলোয়াড়, কোচ, দর্শক—সব চাপ সামলে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু নিজের প্রাপ্য সম্মানি পেতে এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।’
বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামোতে রেফারিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, তাদের প্রাপ্য অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকায় পেশাগত মর্যাদা ও অনুপ্রেরণা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রভাব
বাফুফের ভেতরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তদন্ত শেষে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে দেশের ফুটবল অঙ্গনের অনেকেই সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, দ্রুত সমাধান না হলে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা একসময় মাঠের খেলাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রেফারিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না হলে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
