কামরান আকমলের কটাক্ষ: পাকিস্তানের ক্রিকেট এখন 'কমেডি শো', আইসিসি ট্রফি চুরি করে আনবেন?
কামরান আকমল: পাকিস্তান ক্রিকেট 'কমেডি শো'

পাকিস্তান ক্রিকেটকে 'কমেডি শো' বললেন কামরান আকমল

পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কামরান আকমল দেশের ক্রিকেট দলের বর্তমান অবস্থাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'কমেডি শো' বলে অভিহিত করে বলেছেন, পাকিস্তান এখন যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে, তা দেখতে হাসি ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর আকমল এই মন্তব্য করেন। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ২৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। এই পরাজয়ের আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব থেকেও বিদায় নিয়েছিল শাহিন আফ্রিদির দল।

ইউটিউব চ্যানেল 'দ্য গেম প্ল্যান'-এর একটি অনুষ্ঠানে আকমল বলেন, 'পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বরং হাসা উচিত, উপভোগ করা উচিত। এমনভাবে দেখা উচিত যেন কমেডি সিরিয়াল দেখছেন। আমি এভাবেই দেখছি, উপভোগ করছি। কারণ, অভ্যাস হয়ে গেছে। এটা কমেডি সিরিয়ালই।'

টিম ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমালোচনা

আকমল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের টিম ম্যানেজমেন্টের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, 'তিন ম্যাচের সিরিজে এই টিম ম্যানেজমেন্টকে ৩০ খেলোয়াড় দিলে, ৩০ জনকেই খেলাত। এদের হার-জিতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষার শখ।'

বাবর আজম ও ফখর জামানের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের ছাড়াই এই সিরিজ খেলেছে পাকিস্তান। প্রথম ওয়ানডেতে চারজনের অভিষেক হয়েছিল, আর তৃতীয় ম্যাচেও গাজি ঘোরি ও সাদ মাসুদের অভিষেক হয়েছে। আকমল প্রশ্ন করেন, 'ম্যাচটি হেরে গেছেন। আপনারা কিসের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন! পিচটা ভালো ছিল। টসে জিতে কেন বোলিং করা হলো? ব্যাটিং করা হলো না কেন? তারা ৩৫০ করতে পারত।'

আইসিসি ট্রফি নিয়ে বিদ্রূপ

আকমল আরও খোঁচা দিয়ে বলেন, 'দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারলে উন্নতি হবে কীভাবে? আইসিসি ট্রফি কি চুরি করে নিয়ে আসবেন?' এই মন্তব্য গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ঘটনা থেকে উদ্ভূত, যেখানে ভারতীয় দল রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানের এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

টানা চতুর্থ টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা

ওয়ানডে সিরিজ হারের আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হারার পাশাপাশি সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পরাজিত হয় তারা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও রান রেটের কারণে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান, যা টানা চতুর্থ আইসিসি টুর্নামেন্টে তাদের সেমিফাইনালে উঠতে না পারার রেকর্ড।

আকমল শেষে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'সৃষ্টিকর্তার দোহাই লাগে, পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে একটু ভাবুন। কতটা নিচে নেমেছি আমরা, শুধু সেটা দেখুন। নেদারল্যান্ডস হয়তো ভাবছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারলে হয়তো তারা টেস্ট মর্যাদা পাবে। কারণ, তারাও আমাদের হারাতে পারবে। আপনারা নিজেদের ক্রিকেটকে হাস্যকর করে তুলছেন।'