সৌম্য সরকারের বাদ পড়া নিয়ে স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট, মিরাজের ব্যাখ্যা
সৌম্য সরকার বাদ পড়ায় স্ত্রীর পোস্ট, মিরাজের ব্যাখ্যা

সৌম্য সরকারের বাদ পড়া নিয়ে স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট, মিরাজের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর দল নির্বাচন নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। পুরো সিরিজে একই একাদশ নিয়ে খেলা বাংলাদেশ দলের শেষ ওয়ানডেতেও জায়গা পাননি ওপেনার সৌম্য সরকার। আর ঠিক সেই দিনই সিরিজ জয়ের পর ফেসবুকে একটি রহস্যময় পোস্ট করেন তার স্ত্রী প্রিয়ন্তী দেবনাথ।

স্ত্রীর পোস্টে উঠে এলো তেল না দেওয়ার অভিযোগ

প্রিয়ন্তী দেবনাথ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘পৃথিবীটা অনেক নিষ্ঠুর।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘কঠোর পরিশ্রম, অর্জন আর নিষ্ঠা সব সময় স্বীকৃতি পায় না। আর যারা মানুষকে তেল দেওয়ার কৌশল জানে না, তারা অনেক সময় পিছিয়েই থাকে।’ এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অধিনায়ক মিরাজের ব্যাখ্যায় সৌম্যের ছন্দহীনতা

সৌম্য সরকারকে দলে না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সৌম্য সরকার ভালো ছন্দে ছিলেন না বলেই তাকে বিবেচনায় নেয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরাজ বলেন, ‘সৌম্য আগের সিরিজে ভালো খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না।’ তবে তিনি সৌম্যের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন এবং দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য কম্বিনেশন নিয়ে খেলতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

ওপেনিংয়ে নতুন কম্বিনেশনের পরিকল্পনা

মিরাজ আরও বলেন, এই সিরিজে টিম ম্যানেজমেন্ট ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমকে সুযোগ দিতে চেয়েছিল। কারণ তানজিদ আগের সিরিজে খেলেনি, আর সৌম্য কিছুটা ছন্দ হারিয়েছিল। তাই এই দুজনকে দিয়ে ওপেন করানোর পরিকল্পনা করা হয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে সৌম্য সরকার আবার দলে সুযোগ পেলে তাকে এক-দুই ম্যাচ নয়, টানা কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে একজন ব্যাটার নিজেকে ভালোভাবে প্রমাণ করার সুযোগ পায় বলে তিনি মনে করেন।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া ও খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সৌম্য সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও, তার স্ত্রীর পোস্টটি ক্রিকেট অঙ্গনে ‘তেল দেওয়া’ সংস্কৃতির প্রতি একটি তীব্র মন্তব্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে।