শেহজাদের কড়া সমালোচনা: পাকিস্তান ক্রিকেটকে জিম্বাবুয়ে ভাবছে মানুষ
শেহজাদ: পাকিস্তান ক্রিকেট জিম্বাবুয়ে পর্যায়ে নেমেছে

পাকিস্তান ক্রিকেটের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শেহজাদের তীব্র সমালোচনা

বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পাকিস্তান ক্রিকেট উদ্বেগজনক মাত্রায় নিচের দিকে নামছে এবং মানুষ এখন তাদের জিম্বাবুয়ে ভাবে।

নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও অজুহাতের অভিযোগ

ঢাকায় তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১ রানের হারের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেহজাদ অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও প্রধান কোচ মাইক হেসনকে সরাসরি দোষ দিয়ে বললেন, এই ম্যানেজমেন্ট সমস্যা সমাধানের বদলে অজুহাত খুঁজছে। তিনি বলেন, 'টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লজ্জাজনক পারফরম্যানের পরেও কোনো পরিবর্তন করেননি। হঠাৎ কোথা থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে এলেন। এখন সিরিজ হারার পর একাদশে তরুণ থাকার অজুহাত দিচ্ছেন। ভুল স্বীকার না করলে জীবনে কখনো এগোনো যায় না।'

বাবর আজম ও ফখর জামানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

সিরিজে বাবর আজম ও ফখর জামানের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুললেন শেহজাদ। দলের ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি রয়েছে। আফ্রিদি ও হেসন বলেছেন দুজনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ দাবি করেছেন তারা সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোট পেয়েছেন।

টস সিদ্ধান্ত ও ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা

তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তেও আফ্রিদিকে প্রশ্ন করলেন শেহজাদ। তিনি বলেন, 'টস জিতে বোলিং করতে নামলেন কেন? পিচ ভালো ছিল। আগে ব্যাট করে রান তুলতেন, তারপর রাতে আলোর নিচে বোলিং করতেন। সিনিয়র খেলোয়াড়রা যখন এভাবে আচরণ করেন, তখন তরুণদের কাছ থেকে কী আশা করবেন?'

এই হার এসেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে ছিটকে পড়ার পরপরই। টানা চারটি আইসিসি ইভেন্টে সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা ছোট করার চেষ্টাকেও উড়িয়ে দিলেন শেহজাদ। তিনি বলেন, 'বলছেন অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছেন। কিন্তু তারা কখনো পুরো দল নিয়ে খেলেনি। পাকিস্তান ক্রিকেট ঠিক করতে চাইলে এতদিনে করতেন।'

জিম্বাবুয়ে পর্যায়ে নেমে যাওয়ার অভিযোগ

সবচেয়ে কড়া সমালোচনায় শেহজাদ বললেন, 'আপনারা অ্যাসোসিয়েট দলের পর্যায়ে নেমে যাচ্ছেন। মানুষ এখন পাকিস্তানকে জিম্বাবুয়ে ভাবে। আর তারপর বলছেন রান রেটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছি। একটু লজ্জা করুন।' এই মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।