বাংলাদেশের রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ১১ রানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দল একটি রিভিউ সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদের কাছে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে, যেখানে অন-ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে ধরা হয়েছে।
রিভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের দাবি
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান দলটি যুক্তি দিচ্ছে যে বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ডেলিভারির রিপ্লে দেখানো হয়েছিল। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের সামনে রিপ্লে দৃশ্যমান হওয়ার আগেই নিতে হয়, যাতে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত না হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, বাংলাদেশ সম্ভবত রিপ্লে দেখে রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে।
এছাড়া, নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ডের সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশ রিভিউ নেয়নি বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। এই সময়সীমা অতিক্রমের বিষয়টিও অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তের বর্ণনা
রোববার মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ২৯০ রানের লক্ষ্য ধার্য করে। পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ২ বলে দরকার ছিল ১২ রান। রিশাদ হোসেনের ডেলিভারিতে শাহিন আফ্রিদি এলবিডব্লু চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটকিপার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ নেন। আম্পায়ার ধর্মসেনা প্রাথমিকভাবে বলটিকে ‘ওয়াইড’ ঘোষণা করলেও, বাংলাদেশের রিভিউ নেওয়ার পর আলট্রা এজ প্রযুক্তিতে বল ব্যাটের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় কম্পন ধরা পড়ায় ওয়াইড বাতিল হয়।
বাংলাদেশের রিভিউ সফল না হলেও, রিশাদের ডেলিভারি বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়, যার ফলে পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১২ রান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১১ রানে ম্যাচ হারার পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে সিরিজও হেরে যায়।
অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘লিটন এবং শান্ত দুজনেই পরামর্শ দিয়েছিল যে যেহেতু আমাদের রিভিউ বাকি আছে, তাই আমাদের এটি নেওয়া উচিত। আমরা জানতাম আমাদের দুটি রিভিউ হাতে আছে এবং এটি আমাদের পরিকল্পনারই অংশ ছিল।’ অন্যদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনো স্পষ্ট করেনি যে তারা ম্যাচ রেফারির কাছ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা আশা করছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অন্ততপক্ষে এই ভুলের একটি প্রকাশ্য স্বীকৃতি চাইছে।
এই ঘটনা ক্রিকেট বিশ্বে রিভিউ সিস্টেমের প্রটোকল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে সময়সীমা ও রিপ্লে দেখার নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
