সালমান আগার রানআউট বিতর্কে উত্তপ্ত সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সালমান আগার মুখে হাসি লুকোতে পারেনি কৌতূহল। পাকিস্তানের মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম জিলানি শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে খুনসুটি করলেন, কিন্তু মূল আলোচনা ছিল সালমানের রানআউট নিয়ে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ১২৮ রানের জয় গৌণ হয়ে গেছে এই বিতর্কের কাছে।
মিরাজের করা রানআউটে সালমানের ক্ষোভ
সালমান আগা স্পষ্ট করেছেন, মিরাজের করা রানআউট তিনি মানতে পারছেন না। তাঁর মতে, স্পোর্টসম্যানশিপ ক্রিকেটের আইনের চেয়ে ওপরে থাকা উচিত। তিনি বলেন, "কখনোই না। আমরা অতীতে কখনো এমন করিনি। ভবিষ্যতেও করব না।"
ঘটনাটি ঘটেছিল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমানের জুটিতে রান ১০০ ছাড়িয়েছে। মিরাজের বল রিজওয়ান খেলেন, সালমান বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজ তা আগে তুলে নিয়ে আন্ডার আর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন। সালমান দাবি করেন, তাঁর রান নেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনা রিপ্লে দেখেই আউট দেন।
মাঠে ও ধারাভাষ্যকক্ষে উত্তেজনা
আউট হওয়ার পর সালমান গ্লাভস ও হেলমেট মাটিতে ছুড়ে মারেন, যা তিনি "হিট অব দ্য মোমেন্ট" বলে ব্যাখ্যা করেন। ধারাভাষ্যকক্ষে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রমিজ রাজা স্পিরিট অব ক্রিকেট এর প্রসঙ্গ তুলেন। সালমানের মতে, আইন অনুসরণ জরুরি, কিন্তু স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিটকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি: মিরাজ ভুল করেননি
বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিরাজ ভুল কিছু করেননি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "মিরাজ ভেবেছে তাঁকে রানআউট করবে। সে নিশ্চিত ছিল না সালমান কী করছে। সত্যি বলতে আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।" মুশতাক সালমানের প্রতিক্রিয়াতেও ভুল দেখেন না, এবং সালমান আশ্বস্ত করেছেন যে মিরাজের সঙ্গে তাঁর কথা হবে, সবকিছু ঠিকঠাক আছে।
এই বিতর্ক ক্রিকেট বিশ্বে আইন বনাম নৈতিকতার চিরন্তন বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে, যেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে গেছে উত্তপ্ত আলোচনা।
