পাকিস্তানের দাপুটে জয়, সিরিজ সমতায় ফিরলো
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় পাকিস্তান দাপুটে ১২৮ রানের জয় পেয়েছে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে। শুক্রবার বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরিয়ে এনেছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
পাকিস্তানের ২৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যাটিং অর্ডার সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ চাপে পড়ে। এরপর ৬.৩ ওভারে ২৫ রানে তিন উইকেট থাকা অবস্থায় শিলাবৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
দুই ঘণ্টা পনের মিনিট বিলম্বের পর খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং বাংলাদেশের জন্য সংশোধিত ডিএলএস লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। এই সংশোধিত লক্ষ্য বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং প্রমাণিত হয়।
লিটন দাস কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিলেন ৩৩ বলে ৪১ রানের দ্রুত ইনিংস খেলে, কিন্তু ১৩তম ওভারে তার আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের আশা প্রায় বিলীন হয়ে যায়। তাওহীদ হৃদয় ৩৮ বলে ২৮ রান করলেও প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রাখতে ব্যর্থ হন।
বাংলাদেশের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ ২৩.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়, যা পাকিস্তানকে বিশাল জয় এনে দেয়। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রাউফ ও মাজ সাদাকাত তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেন।
পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং প্রদর্শন
খেলার শুরুতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস জিতে দ্বিতীয় ম্যাচেও ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত দারুণ সূচনা দেন, বিশেষ করে সাদাকাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।
সাদাকাত দ্বিতীয় ওভারে দুটি বাউন্ডারি এবং তৃতীয় ওভারে দুটি ছক্কা মেরে পাকিস্তানের দ্রুত রান সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান মাত্র ৬.৪ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ করে, আর সাদাকাত নবম ওভারে মাত্র ৩১ বলে তার অর্ধশতক সম্পন্ন করেন। প্রথম দশ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৮৫ রান শূন্য উইকেটে।
মিরাজ ১৩তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন যখন ওপেনিং জুটি ১০৩ রান যুক্ত করে। সাদাকাত ৪৬ বলে ৭৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
বিতর্কিত আউট ও পাকিস্তানের ইনিংস
সাদাকাতের আউটের পর বাংলাদেশ আরও কয়েকটি উইকেট পেলেও মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
৩৯তম ওভারে আগার আউট বিতর্কের সৃষ্টি করে। রিজওয়ানের একটি শট লং-অনে যাওয়ার সময় মিরাজ ডান দিকে গিয়ে পায়ে বল থামান। বলের গতি কমে যাওয়ায় ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা আগা বলটি তুলে বোলারকে দিতে যান। এই সুযোগে মিরাজ দ্রুত বলটি নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোয় স্টাম্প ভেঙে দেন যখন আগা এখনও ক্রিজের বাইরে ছিলেন।
তৃতীয় আম্পায়ার ফুটেজ রিভিউ করে আউটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন, যেহেতু বলটি ডেড বল ঘোষণা করা হয়নি। ক্ষুব্ধ আগা মাঠ ছাড়ার সময় তার গ্লাভস ও হেলমেট ছুড়ে ফেলেন। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬২ বলে ৬৪ রানের সুন্দর ইনিংস খেলেছিলেন।
রিজওয়ান ৫৯ বলে ৪৪ রান করে আগার আউটের কিছুক্ষণ পরই আউট হয়ে যান। ৩৫ ওভারের পর পাকিস্তান ৩০০ রানের কাছাকাছি যাওয়ার অবস্থায় ছিল, কিন্তু আগা ও রিজওয়ানের দ্রুত আউট হওয়ায় তাদের গতি কমে যায়।
বাংলাদেশের বোলাররা ডেথ ওভারে ভালো পারফরম্যান্স করে নিয়মিত উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ৪৭.৪ ওভারে ২৭৪ রানে সীমাবদ্ধ করতে সক্ষম হন।
সিরিজের চূড়ান্ত ম্যাচের অপেক্ষা
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরিয়ে এনেছে। রোববার তৃতীয় ও চূড়ান্ত ওয়ানডে ম্যাচে উভয় দলই সিরিজ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করবে। মিরপুরের এই ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ দলকে তৃতীয় ম্যাচের জন্য দ্রুত পুনর্বিন্যাস করতে হবে, বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং অর্ডার ও মিডল ওভার বোলিং কৌশলে উন্নতি আনতে হবে। পাকিস্তান তাদের গত ম্যাচের জয়ের গতি বজায় রাখতে চাইবে এবং সিরিজ জয়ের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে।
