বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল পাকিস্তান
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজ জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১২৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে, যেখানে আগামী রোববারের তৃতীয় ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে।
টসে জিতে ভুল সিদ্ধান্ত নেন মিরাজ
টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন, যা পরবর্তীতে ভুল প্রমাণিত হয়। পাকিস্তানের ইনিংসে দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেন। সাদাকাত মাত্র ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন, তাসকিন আহমেদকে দুটি ছক্কা মেরে নিজের ক্ষমতার পরিচয় দেন।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই প্রথম ফিফটি করা সাদাকাত ১৩তম ওভারে স্কুপ শট খেলতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। তিনি ৪৬ বলে ৭৫ রান করে দলকে দারুণ ভিত্তি দেন। ওপেনিং জুটি থেকে ১০৩ রান আসার পর পাকিস্তান ১৯ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায়, কিন্তু সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০৯ রানের পার্টনারশিপ দলকে পুনরায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
বিতর্কিত আউট ও পাকিস্তানের ইনিংস
৩৯তম ওভারে একটি বিতর্কিত আউটের ঘটনা ঘটে। রিজওয়ানের শট বোলার মিরাজের পায়ে লাগার পর, ক্রিজের বাইরে থাকা সালমান বল মিরাজের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মিরাজ সেই সুযোগে বল স্টাম্পে মেরে আপিল করলে, তৃতীয় আম্পায়ারের রায়ে সালমান আউট হন ৬৪ রানে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ সালমান মাঠ ছাড়েন। একই ওভারে ৪৪ রানে আউট হন রিজওয়ানও।
এরপর পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়। শেষ ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা ২৭৪ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ হোসেন ৩ উইকেট শিকার করেন, যা দলের জন্য একমাত্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু থেকেই বিপদে পড়ে। মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। শাহিন আফ্রিদির বলে তানজিদ হাসান তামিম ১ রানে ক্যাচ দেন, ওয়াসিম জুনিয়রের প্রথম বলেই সাইফ হাসান ১২ রানে ক্যাচ দেন, এবং পরের ওভারে আফ্রিদির বলে নাজমুল হোসেন শান্ত শূন্য রানে বোল্ড হন।
ঠিক তখনই মিরপুরে বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়, প্রায় ১৩৩ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমিয়ে ৩২ ওভারে নামানো হয় এবং ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান।
পুনরায় শুরু ও শেষ আশা
খেলা আবার শুরু হওয়ার পর লিটন দাস ও হৃদয় হোসেন ৫০ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগান। লিটনকে জীবনও দেন মাজ সাদাকাত—ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় সেটি ছক্কায় পরিণত হয়। কিন্তু ১৩তম ওভারে সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪১ রানে ফেরেন লিটন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদাকাতের প্রথম উইকেট শিকার ছিল।
এরপর একে একে আফিফ হোসেন (১৪ রান), মেহেদী হাসান মিরাজ (১ রান), রিশাদ হোসেন ও হৃদয় হোসেন (২৮ রান) ফিরে গেলে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। দলটি মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়, যা প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের অলআউট স্কোরের সমান।
সিরিজে সমতা ও সামনের পথ
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেরাই একই স্কোরে অলআউট হয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে। পাকিস্তান অনায়াসে এই ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে। আগামী রোববারের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ম্যাচটি এখন সিরিজ জয়ের জন্য অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে, উভয় দলই চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য প্রস্তুত।
এই ম্যাচে পাকিস্তানের পক্ষে মাজ সাদাকাতের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স—৭৫ রানের দ্রুত ইনিংস ও প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার—মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই দুর্বলতা দেখা গেছে, যা সিরিজের চূড়ান্ত ম্যাচের আগে দলকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
