দ্য হান্ড্রেড নিলামে পাকিস্তানি স্পিনার কেনায় উগ্রবাদীদের তোপের মুখে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি
দ্য হান্ড্রেড নিলাম ২০২৬-এ পাকিস্তানের লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদকে কিনে নেওয়ার পর সানরাইজার্স লিডস উগ্রবাদীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পরিচালনা করে, এবং তাদের এই সিদ্ধান্ত অনলাইনে ব্যাপক নেতিবাচক মন্তব্যের জন্ম দিয়েছে।
নিলামের ঘটনা ও প্রতিক্রিয়া
২৭ বছর বয়সী আবরার আহমেদকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কিনেছে সানরাইজার্স লিডস। নিলামের আগে থেকেই জল্পনা ছিল যে আইপিএল-সংযুক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এড়িয়ে যাবে। ২০০৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় আইপিএলে খেলতে পারেননি, এবং দুই দেশ শুধু বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়।
তবে নিলামের আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এবং আট ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল, যেখানে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে খেলোয়াড় বাছাই হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বাছাই হবে 'পারফরম্যান্স, প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি দলের চাহিদার' ভিত্তিতে। মূলত এই কারণেই লিডসে নাম লেখাতে পেরেছেন আবরার, কিন্তু তাতেই তার দল তোপের মুখে পড়ে গেছে ভারতে।
উগ্রবাদীদের দৌরাত্ম্য ও পূর্বের ঘটনা
ভারতে উগ্রবাদীদের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দিতে একাধিক উগ্রবাদী গোষ্ঠী চাপ দিয়েছিল, যার সামনে নতি স্বীকার করে বিসিসিআই কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে সরিয়ে দিতে। এর জের ধরে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।
এবার আবারও ভারতীয় এক ফ্র্যাঞ্চাইজি তোপের মুখে পড়ল, এবার অবশ্য পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে দলে টেনে। কলকাতার মতো পরিণতি সানরাইজার্স লিডসেরও হয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে। অনলাইনে অনেক সমর্থক আইপিএলের সঙ্গে সংযুক্ত একটি দলের পাকিস্তানি খেলোয়াড় কেনার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন, এবং কেউ কেউ সানরাইজার্স লিডসের সহ-মালিক কাব্য মারানকেও আক্রমণ করেন।
অন্যান্য পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ভাগ্য
আবরার বাদে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মাঝে দল পেয়েছেন শুধু উসমান তারিক। পাকিস্তানি স্পিনারকে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে কিনেছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। তবে আবরার-উসমানকে কিনলেও পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়ের ভাগ্য ভালো হয়নি।
- পেসার হারিস রাউফ তার ১ লাখ পাউন্ডের সর্বনিম্ন মূল্যেও কোনো বিড পাননি।
- শাহিন শাহ আফ্রিদি নিলাম শুরুর আগেই সরে যান।
- নারী নিলামেও পাকিস্তান হতাশ হয়েছে: ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল কোনো বিড পাননি।
এই ঘটনা ক্রিকেট জগতে রাজনৈতিক প্রভাব ও মেধার দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সিদ্ধান্তগুলোর পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



