নাহিদ রানার ফাইফারে পাকিস্তানের ভরাডুবি: ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট
পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই গতিময় বোলিংয়ের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছেন নাহিদ রানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনি একই ধারাবাহিকতায় সমর্থকদের মুগ্ধ করেছেন। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও পুরোপুরি নিয়মিত হয়ে উঠতে পারেননি এই ডানহাতি পেসার। লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা নিয়েও তাকে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে আগুনঝরা বোলিং করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নিয়েছেন রানা।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের একপেশে জয়
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে একপেশে দাপটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া নাহিদ রানা বলেন, ‘শুরুতে আমি আমার স্ট্রেন্থে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। আজকের দিনেও চেষ্টা করছি স্ট্রেন্থ দিয়ে শুরু করার। ব্যাটসম্যানের চেহারা দেখে কিংবা ব্যাটসম্যান আগে থেকে আমি কাকে চিনি কিংবা চিনি না ওইটা দেখিনি। উইকেটে যে জিনিসটা ডিমান্ড করছে আমি ওই সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’
দলের পরিকল্পনা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব
দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে নাহিদ বলেন, ‘তাদের পরিকল্পনা ছিল একটাই যে তুমি মন খুলে বোলিং করো এবং তুমি যে জিনিসটা পারো ওই জিনিসটাই মাঠে গিয়ে করো। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেকের ফিট থাকা উচিত এবং যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে হতে পারে। দল যেটা চায়, সে অনুযায়ী নিজেকে ফিট রাখা উচিত।’
লাইন-লেংথের চ্যালেঞ্জ ও দলকে জেতানোর প্রচেষ্টা
নাহিদ রানার গতির বোলিং নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতা নিয়ে মাঝেমধ্যে ভুগেছেন তিনি। তবে প্রতিটি ম্যাচেই দলকে জেতাতে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানান এই পেসার। তিনি বলেন, ‘কখনোই মনে হয় না যে এই দল দেখলে পারফর্ম করতে হবে। সবসময় চেষ্টা থাকে যে কীভাবে ভালো করা যায় এবং আমার দল কী চাইছে, ওই জিনিসটা আমি করতে পারছি কি না। কখনও হয়, কখনও হয় না। চেষ্টা থাকে সবসময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে জেতানোর।’
ওয়াকার ইউনিসের পরামর্শ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
এর আগে বিপিএলের সময় ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে হওয়া আলাপের কথাও জানান ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। তিনি বলেন, ‘উনার (ওয়াকার ইউনিস) সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, উনি শুধু একটা জিনিসই বলছিল যে তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং তোমার যে শক্তি এই জিনিসটা কখনও হারাতে দিও না। যত ম্যাচ খেলবে তত শিখবে। উনি বলছিল যে আমি তোমাকে এখন যত কিছুই বলি তোমার মাথায় ঢুকবে না, কিন্তু তুমি যদি নিজে জিনিসটা বোঝো বা নিজে করো সেটা তোমার মনে থাকবে।’
এই ম্যাচে নাহিদ রানার অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার বোলিং কৌশল ও দলের প্রতি প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।



