চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে উত্তেজনা: ইতিহাস ও পরিসংখ্যানে মুখোমুখি দলগুলো
চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট: ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট পর্বে উত্তপ্ত লড়াই: ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ

চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের সমাপ্তির পর শুরু হয়েছে নকআউট পর্বের উত্তেজনাময় লড়াই। শেষ ষোলো দলের প্রথম লেগে ইউরোপের সেরা ফুটবল ক্লাবগুলো মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে দলগুলোর মধ্যকার লড়াইয়ের ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য।

লেভারকুসেন বনাম আর্সেনাল: জার্মানির বিপক্ষে আর্সেনালের দুর্ভাগ্য

ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচটি দুই লেগের লড়াইয়ের মধ্যে চারটিতেই জয়লাভ করেছে বায়ার লেভারকুসেন। বিপরীতে আর্সেনাল জার্মান ক্লাবগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচটি দুই লেগের লড়াইয়েই পরাজিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পাঁচটি লড়াইই ছিল বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো পর্বে লেভারকুসেন টানা ছয়বার হেরেছে। তবে চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনাল টানা আটটি ম্যাচ জিতেছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটিই তাদের টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে টানা এর চেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড শুধু ম্যানচেস্টার সিটির রয়েছে, যারা ১০ ম্যাচ জিতেছে ১৭ মে ২০২৩ থেকে ৬ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত।

চলতি মৌসুমে আট ম্যাচের সব কটিতেই আগে গোল করেছে আর্সেনাল। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে তারা ৩ বা তার বেশি গোল করার ক্ষমতা দেখিয়েছে।

পিএসজি বনাম চেলসি: ফরাসি দলের বিপক্ষে চেলসির দারুণ রেকর্ড

ইউরোপীয় মঞ্চে ৮ বারের দেখা হয়েছে পিএসজি ও চেলসির মধ্যে, যেখানে ৩ বার জিতেছে পিএসজি, ২ বার চেলসি এবং বাকি ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে সর্বশেষ ৮ ম্যাচে পিএসজি হেরেছে মাত্র একবার। গত মৌসুমে তারা লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা ও আর্সেনালকে একে একে বিদায় করেছিল।

পিএসজি টানা ১৪ মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে খেলছে। নকআউট পর্বে শেষ ৫৮ ম্যাচে তারা কখনোই গোলশূন্য ড্র করেনি। তবে ফরাসি দলগুলোর বিপক্ষে শেষ ৬ ম্যাচেই জিতেছে চেলসি। নকআউটের শেষ ১৬টি দ্বৈরথের ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে লন্ডনের এই দলটি।

বোডো/গ্লিমট বনাম স্পোর্টিং লিসবন: ঐতিহাসিক মুখোমুখি

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নরওয়ে ও পর্তুগিজ ক্লাবের মধ্যে এটাই প্রথম কোনো নকআউট দ্বৈরথ। বোডো/গ্লিমট প্রথম নরওয়েজীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ৪ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছে। সর্বশেষ ইউরোপা লিগে পোর্তো ও ব্রাগাকে হারিয়ে পর্তুগিজদের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে গ্লিমট।

চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে শেষ ষোলোর বাধা কখনোই টপকাতে পারেনি স্পোর্টিং লিসবন। ইউরোপীয় আসরে তাদের একমাত্র কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা সেই ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে, ইউরোপিয়ান কাপে।

রিয়াল মাদ্রিদ বনাম ম্যানচেস্টার সিটি: টানা পঞ্চম মৌসুমের মুখোমুখি

টানা ৫ মৌসুম নকআউটে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। ১৫ বারের দেখা হয়েছে এই দুই দলের মধ্যে, যেখানে ৫টি করে জয় ও ৫টি ড্র নিয়ে পাল্লা একদম সমান। সর্বশেষ ১৫ বারের মধ্যে ১৩ বারই শেষ ষোলোর বাধা টপকেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

তবে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে সর্বশেষ ৪টি ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকতে হয়েছে তাদের। স্প্যানিশ দলের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির সর্বশেষ ১৮ ম্যাচে হার মাত্র ৩টি, যেখানে ১০ জয় ও ৫ ড্র রয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সর্বশেষ ১৩টি গোলের ১২টিই এসেছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে, যা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।

চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের এই লড়াইগুলো শুধু বর্তমান ফর্মই নয়, ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি দল তাদের অতীত রেকর্ড ভাঙতে বা ধরে রাখতে মাঠে নেমেছে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ আসরকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।