১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষেই। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীলঙ্কার মোরাতুয়ায় এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে টসটি হয়েছিল বাউন্ডারি লাইনের বাইরে, যা ছিল একটি অদ্ভুত ঘটনা। পাকিস্তানের অধিনায়ক ইমরান খান ও বাংলাদেশের অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেনের মধ্যে এই টস স্মরণীয় হয়ে আছে। ৪৫ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ৩৫.৩ ওভারে ৯৪ রানে অলআউট হয়, যেখানে শহীদুর রহমান করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩৭ রান। পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার ওয়াসিম আকরাম ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।
প্রথম প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিও পাকিস্তানিদেরই। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে এশিয়া কাপের ম্যাচে মঈন-উল-আতিক ও ইজাজ আহমেদ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। তৃতীয় উইকেটে ২০৫ রানের জুটি গড়া এই দুই ব্যাটসম্যান ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। ইজাজ আহমেদ পরবর্তীতে আরও ৯টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেলেও, আতিকের পাঁচ ম্যাচের ক্যারিয়ারে একমাত্র সেঞ্চুরি হয়ে আছে সেটিই।
নর্দাম্পটনের মহাকাব্যিক জয়
১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারা বাংলাদেশ অভিষেক বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ২২৩ রান করে। রান তাড়ায় পাকিস্তান ১৬১ রানে অলআউট হয়ে ৬২ রানে হারে। ব্যাট হাতে ২৭ রান করা খালেদ মাহমুদ মিডিয়াম পেসে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। সাকলাইন মুশতাককে রানআউট করে দিয়েছিলেন খালেদ মাসুদ, যা ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।
অন্ধকারের পর আবার আলো
১৯৯৯ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক জয়ের পর ২০১৪ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ শুধু হেরেছেই। তিন সংস্করণ মিলিয়ে দেড় দশকে পাকিস্তানের কাছে টানা ৪০ ম্যাচে হারে বাংলাদেশ। তবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে ঝলমলে অধ্যায় শুরু হয় পাকিস্তানকে ধবলধোলাই দিয়ে। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ৩২৯ রান করে ৭৯ রানে জেতে বাংলাদেশ। তামিম পরের ম্যাচেও সেঞ্চুরি পান, যেখানে বাংলাদেশ ২৩৯ রান টপকে ৭ উইকেটে জয়ী হয়। শেষ ম্যাচে সৌম্য সরকারের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ২৫১ রানের লক্ষ্য ৪০তম ওভারেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
আবুধাবির 'মিরাকল' জয়
২০১৮ সালে এশিয়া কাপে আবুধাবিতে সুপার ফোরের ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়। চোটের কারণে তামিম ও সাকিব আল হাসান না থাকায় ভাঙাচোরা দল নিয়েই বাংলাদেশ ২৩৯ রানে অলআউট হয়, যেখানে মুশফিকুর রহিম মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম ২ ওভারেই ফখর জামান ও বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেন। ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠতে না পেরে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০২ রান তুলে বিদায় নেয়, আর বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে যায়।
সম্প্রতিক দ্বন্দ্ব ও চ্যালেঞ্জ
২০১৫ সালের পরে বাংলাদেশ আজ প্রথম ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে। ২০১৮ এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ মিলিয়ে তিন ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের পাকিস্তান সফরের একমাত্র ওয়ানডেটি করোনার কারণে হয়নি, এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচটি রাওয়ালপিন্ডিতে বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এই প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে আছে।
