মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার স্থির: ওয়ানডেতে এখন থেকে সাত নম্বরে খেলবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক
মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার স্থির: সাত নম্বরে খেলবেন

মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার স্থির: ওয়ানডেতে এখন থেকে সাত নম্বরে খেলবেন বাংলাদেশ অধিনায়ক

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে তিনি সাত নম্বরে ব্যাট করবেন। পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন। মিরাজ বলেন, 'আমি এটা নিজেই উপলব্ধি করেছি, আমার ব্যাটিংটা কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখবে দলের জন্য। যেহেতু আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে, আমি প্রায় ৮-৯ বছর আট নম্বরে খেলেছি। ওখান থেকে বোলারদের নিয়ে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছি, এ রকম অনেক ইনিংসই আছে।'

ব্যাটিং অর্ডারে স্থিতিশীলতা আনতে চান মিরাজ

মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তনশীল ছিল। ওয়ানডেতে তিনি ওপেনিং থেকে শুরু করে নবম নম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাট করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন আট নম্বরে, যেখানে একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তাঁর। তবে গত এক বছর ধরে অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যাটিং অর্ডারে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তিনি তিনটি ভিন্ন জায়গায় ব্যাট করেছেন।

এখন সাত নম্বরে ব্যাট করার সিদ্ধান্তের পেছনে মিরাজ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'যেহেতু আমার অভিজ্ঞতা আছে বোলারদের সঙ্গে খেলার, আমি যদি সাত নম্বরে ব্যাটিং করি, এটা দলকে অনেক সাহায্য হবে। আমি টপ অর্ডারেও ব্যাটিং করেছি অনেক, হয়তো অনেক রান পেয়েছি, তবে অনেক সময় বাংলাদেশ দল জেতেনি। আমার মনে হয় যে এটা (৭ নম্বর) একটা সঠিক জায়গা আমার জন্য এবং দলেরও অনেক সাহায্য হবে।'

দলের ব্যাটিং অর্ডারে অন্যান্য পরিবর্তন

মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অর্ডারে আরও কিছু বদল দেখা যাবে। লিটন দাসকে পাঁচ নম্বরে খেলিয়ে ছয় নম্বরে আফিফ হোসেনকে চেষ্টা করে দেখা হতে পারে। বিসিএল অল স্টারস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও এমন ব্যাটিং অর্ডার দেখা গেছে। টপ অর্ডারের পর নাজমুল হোসেন এবং তাওহিদ হৃদয়ের ওপরই ভরসা রাখতে চাইছে বাংলাদেশ দল।

গত নয়টি ওয়ানডের মধ্যে কেবল দুটিতেই বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার খেলতে পেরেছিল। ব্যাটিংয়ের এই ব্যর্থতা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে, যেমন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হার এবং আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই। তাই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও দলের ভারসাম্য

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের সবকিছু এখন ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থায় থাকার লক্ষ্য রয়েছে, এবং মিরাজ বলেছেন যে নতুন ব্যাটিং অর্ডারে সহসা বদল আসার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, 'সামনে বিশ্বকাপ আছে, দলের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। আমি বেশি কিছু পরিবর্তন করতে চাচ্ছি না। একটা জায়গায় একজন খেলোয়াড়কে বেশি সুযোগ দিলে তার অভিজ্ঞতাটা হয়। একটা ভালো টিম বন্ডিংও হয়। চেষ্টা করব বেশি কিছু পরিবর্তন না করেই দলীয় বোঝাপড়াটা ভালো করতে।'

মিরাজ আরও যোগ করেন, 'যে যেই পজিশনে বিগত দিনে সফল হয়েছে, আমরা চেষ্টা করব তাঁকে সেই জায়গায় খেলানোর জন্য। সে যেন ওখানে পারফর্ম করতে পারে, আমরা ওভাবে চেষ্টা করব।' এই সিদ্ধান্তগুলো দলের সামগ্রিক উন্নতি এবং ভবিষ্যত সাফল্যের দিকে ইঙ্গিত করে।