বিশ্বকাপ শেষে ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা নিয়ে আইসিসি নিয়ে বিতর্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব থেকে বাদ পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। অন্যদিকে, প্রথম সেমিফাইনালে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই দুই দলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও তাদের ক্রিকেটাররা এখনও ভারতে আটকা পড়ে আছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ইংল্যান্ড দল তাদের আগেই দেশে ফিরে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ক্রিকেটারদের ফেরার সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে আইসিসি ইংল্যান্ড দলকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, যা নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
ক্রিকেটারদের অভিযোগ ও আইসিসির প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ক্রিকেটার কুইন্টন ডি কক ও ডেভিড মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইসিসির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ডি কক লিখেছেন, ‘মজার ব্যাপার, আইসিসি। আমরা এখনও কিছুই শুনিনি! অথচ ইংল্যান্ড কীভাবে যেন আমাদের আগেই চলে যাচ্ছে! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো অন্ধকারে আছে! অদ্ভুত যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে বেশি।’
ডেভিড মিলারও একই সুরে লিখেছেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পরে বাদ পড়েও চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরছে। অথচ উইন্ডিজ ও প্রোটিয়ারা এখনও কলকাতায় উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায়।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি মিলারের মন্তব্যে সাড়া দিয়ে লেখেন, ‘ডেভিড মিলার, একটু জোরে বলুন, যেন পেছনের সারির লোকেরাও শুনতে পায়।’
আইসিসির ব্যাখ্যা ও অবস্থান
আইসিসি এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কাউকে বেশি সুযোগ দিচ্ছে না। সংস্থার একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ‘(দেশ ছাড়ার) সিদ্ধান্তগুলো কেবলমাত্র আকাশপথের অবস্থা, বিমানের রুটের অনুমতি, ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা এবং অপারেশনাল নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করেই নেওয়া হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলো ছাড়া অন্য কোনো কারণে দলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এমন ধারণা সঠিক নয়।’
আইসিসি দাবি করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্রিকেটারদের অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে, কেন শুধু ইংল্যান্ড দলই এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।



