মেসির বার্ষিক আয় ৭০-৮০ মিলিয়ন ডলার, ইন্টার মিয়ামির মালিকের স্বীকারোক্তি
ইন্টার মিয়ামির সহ-মালিক হোর্হে মাস সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়। এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে মেসির মালিকানা শেয়ারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তার আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে। মাস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন যে খেলোয়াড়দের ধরে রাখার জন্য উচ্চ ব্যয় প্রয়োজন, এবং সেজন্য ক্লাবের স্পনসরশিপ চুক্তি ও অন্যান্য আয়ের উৎস বৃদ্ধি করা জরুরি।
নতুন স্টেডিয়াম চুক্তি ও আর্থিক প্রস্তুতি
এই সপ্তাহের শুরুতে ইন্টার মিয়ামি ব্রাজিলের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘নু’-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির অধীনে, মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী নির্মাণাধীন নতুন স্টেডিয়ামের নামকরণের অধিকার ‘নু’ প্রতিষ্ঠানটি পাবে। ‘নু স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত এই মাঠে প্রায় ২৬ হাজার ৭০০ আসন থাকবে, এবং আগামী ৪ এপ্রিল এখানে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পদক্ষেপ ক্লাবের আয় বৃদ্ধির একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোর্হে মাস উল্লেখ করেন, ‘স্পনসরদের বিশ্বমানের হতে হবে, কারণ খেলোয়াড়দের দলে রাখা ব্যয়বহুল। মেসিকে আমরা যা দিই, তার প্রতিটি পয়সা উসুল হয়, কিন্তু মোট মিলিয়ে বছরে ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়।’ এমএলএস খেলোয়াড় সংগঠনের বেতন তালিকা অনুযায়ী, মেসি পুরো লিগে সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত খেলোয়াড়। তার মূল বেতন ১ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং নিশ্চিত পারিশ্রমিক ২ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৭ ডলার।
মেসির আয়ের অন্যান্য উৎস ও চুক্তি সম্প্রসারণ
ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুসারে, লিওনেল মেসি অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চুক্তি এবং লিগের সম্প্রচার অংশীদার অ্যাপলের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেন। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর, গত অক্টোবরে মেসি তার চুক্তি ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন, যা তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।
ইন্টার মিয়ামির ব্যবসায়িক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার আসেনসি ব্যাখ্যা করেছেন যে মেসির আগমনের জন্য ক্লাবটি অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আসেনসি বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না; ভাগ্য হলো যখন প্রস্তুতি ও সুযোগ একসাথে মেলে। লিওনেলের আসা এলোমেলো নয়, এর পেছনে কৌশল ও পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর সেই প্রভাব সর্বাধিক করতে আগে, সময়ে ও পরে সবকিছু করার চেষ্টা করা উচিত।
স্পনসরশিপ চুক্তির কৌশলগত শর্ত
আসেনসি একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা মূল জার্সি স্পনসরশিপ চুক্তি করি। আমি একটি শর্ত রেখেছিলাম যে যদি ক্লাব এমন কোনো খেলোয়াড় সই করায় যিনি অন্তত পাঁচটি ব্যালন ডি'অর জিতেছেন, তাহলে স্পনসরশিপ মূল্য দ্বিগুণ হবে। এই চুক্তি ২০২১ সালেই ছিল, যা প্রমাণ করে যে ক্লাব মানসিকভাবে ও কাঠামোগতভাবে প্রস্তুত ছিল মেসির আগমনের জন্য।’
মেসির প্রভাব ও ক্লাবের সাফল্য
মেসির সঙ্গে ইন্টার মিয়ামির চুক্তি ইতিমধ্যেই ফলপ্রসূ হচ্ছে। স্পোর্টিকোর হিসাব অনুযায়ী, ক্লাবটি এখন এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান দল, যার মূল্য ১৪৫ কোটি ডলার। গত এক বছরে ক্লাবের মূল্য ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসেনসি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা কেন বেড়ে উঠছি? কারণ আমরা জিতেছি।’
মেসি দলের আর্থিক অবস্থায় যে পরিবর্তন এনেছেন, তা সম্পর্কে আসেনসি মন্তব্য করেন যে পার্থক্যটা ‘রাত ও দিনের মতো, কালো ও সাদার মতো।’ তিনি উল্লেখ করেন যে মেসির অবদান না থাকলে ক্লাব ভিন্ন অবস্থায় থাকত। আসেনসি বলেন, ‘লিওনেলের আগমনের পর থেকে আমরা ইউএস ওপেন কাপ ফাইনালে পৌঁছেছি, লিগস কাপ জিতেছি, সাপোর্টার্স শিল্ড জিতেছি, রেকর্ড পয়েন্ট পেয়েছি, চ্যাম্পিয়নস লিগে উঠেছি, এমএলএস কাপ জিতেছি, আরেকটি লিগস কাপ ফাইনালে পৌঁছেছি, চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে উঠেছি এবং ক্লাব বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছি।’ এই সাফল্যগুলো মেসির নেতৃত্ব ও প্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।



