সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল একটি অপ্রত্যাশিত সমস্যায় পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকায়, গত কয়েক দিন ধরে তারা কলকাতায় আটকা পড়ে ছিল। তবে এখন অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিশেষ ব্যবস্থায় অবশেষে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করতে পারছেন নিকোলাস পুরান ও ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বাধীন দলটি।
কলকাতায় আটকে পড়ার কারণ
গত রোববার ভারতের কাছে পরাজিত হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কলকাতায় অবস্থান করছিল। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ থাকায় তাদের ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়, যা দলটিকে একটি জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। এই অপেক্ষার সময়ে দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
স্যামির ক্ষোভ ও আইসিসির প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার স্যামি এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু বাড়ি যেতে চাই।’ এর কিছুক্ষণ পরই তিনি আরেকটি পোস্টে আইসিসির কাছে আপডেট চেয়ে বলেন, ‘অন্তত একটা আপডেট দিন, কিছু একটা বলুন। আজ, কাল নাকি আগামী সপ্তাহে? পাঁচ দিন হয়ে গেল!’ তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্যামির কণ্ঠে স্বস্তির সুর শোনা গেল। আইসিসি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পর তিনি এক্সে জানান, ‘আপডেট পেয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল এটাই চেয়েছিল।’
ফিরতি ফ্লাইটের বিস্তারিত
আইসিসির সূত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নিশ্চিত করেছে যে, কলকাতা থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে লন্ডন নেওয়া হবে ক্রিকেটারদের। সেখান থেকে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরবেন। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে রওনা দিতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা। তবে দলের সবাই ফিরবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। সামনেই আইপিএল শুরু হতে যাওয়ায় অনেক ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ভারতেই থেকে যেতে পারেন।
অন্যান্য দলের অবস্থা
শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, একই সমস্যায় পড়েছিল জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলও। জিম্বাবুয়ে দল ইতিমধ্যে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ভারত ছাড়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, গত বুধবার নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দল এখনো ফিরতি ফ্লাইটের অপেক্ষায় কলকাতায় অবস্থান করছে। প্রোটিারাও সম্ভবত জিম্বাবুয়ের মতো ভাগে ভাগে দেশে ফিরবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
মজার ব্যাপার হলো, সেমিফাইনাল থেকে ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর জস বাটলাররাও উইন্ডিজ দলের সঙ্গে একই বিমানে লন্ডন ফিরবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই ঘটনা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়ে ক্রিকেট দলগুলোর ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
