গ্রিসের আদালতে ম্যাগুয়ারের সাজা কমলো, ১৫ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড
গ্রিসে ম্যাগুয়ারের সাজা কমলো, ১৫ মাস কারাদণ্ড

গ্রিসের আদালতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ারের সাজা কমলো

গ্রিসের একটি আদালত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ারকে ১৫ মাসের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সাজা ২০২০ সালের আগস্টে গ্রিসের মাইকোনোস দ্বীপে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার জেরে দেওয়া হয়েছে। আদালত ম্যাগুয়ারকে মৃদু হামলা, গ্রেপ্তার প্রতিরোধ এবং ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

আগের রায় ও আপিলের প্রক্রিয়া

২০২০ সালে একই ঘটনায় ম্যাগুয়ারকে প্রথমে ২১ মাস ১০ দিনের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তাকে বারবার শারীরিক হামলা, ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং অপমানের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার পরদিনই ম্যাগুয়ারের আইনজীবী দল ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। গ্রিসের আইন অনুযায়ী, আপিল করার ফলে আগের দণ্ড বাতিল হয়ে যায় এবং মামলাটিতে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন করে বিচারের পথ তৈরি হয়।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই পুনর্বিচার চারবার স্থগিত করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার সিরোস দ্বীপে বিচারপ্রক্রিয়া আবার শুরু হয়। এবার আদালত সিদ্ধান্তে এসেছেন যে অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক কম হওয়ায় ম্যাগুয়ারের সাজা কমিয়ে ১৫ মাস করা হয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম ও সাক্ষীর উপস্থিতি

স্কাই স্পোর্টস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার কোর্টে তিনজন পুলিশ সাক্ষীর মধ্যে শুধু একজনই উপস্থিত ছিলেন। গ্রিসের আইনজীবীদের মতে, বাকি দুই পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার প্রয়োজন ছিল না, কারণ তারা ইতিমধ্যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যাগুয়ারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিবিসি স্পোর্ট জানিয়েছে, ম্যাগুয়ার সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি গ্রিসের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি নিজের নাম আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিষ্কার করতে চান বলে আদালতের বাইরে সমঝোতার কয়েকটি সুযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার গতকাল রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই দলে ছিলেন, যদিও দলটি শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে।

এই মামলাটি ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ম্যাগুয়ারের ক্যারিয়ার ও আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভবিষ্যতে আদালতের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখন সবার নজরে থাকবে।