সৌদি আরবে আটকা বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম
পবিত্র উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। গতকাল শনিবার তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় তিনি সহ হাজারো যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
ফ্লাইট ফিরিয়ে আনা ও প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস
মুশফিকুর রহিম এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। তবে আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফ্লাইটটি আবার জেদ্দায় ফিরিয়ে আনা হয়। এতে তিনি বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা মনিটর করছি। ইতোমধ্যে আমার সাথে মুশফিকুর রহিমের কথাও হয়েছে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি একটা ফিরতি ফ্লাইটে আগামীকাল (সোমবার) সকালেই দেশে ফিরতে পারবে মুশফিক। এখনো পর্যন্ত মুশফিক ভালো আছে, সুস্থ আছে।'
মুশফিকুর রহিমের সামাজিক মাধ্যমে বার্তা
আটকা পড়ার পর মুশফিকুর রহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে লিখেছেন, 'আসসালামু আলাইকুম সবাইকে, কয়েকদিন আগে আমি উমরাহ হজ পালন করার জন্য মক্কায় এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার হজ সম্পন্ন করেছি এবং আজ এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরছিলাম। আজ সকালে আমরা জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ইকে ০৮০৬ ফ্লাইটে রওনা দিই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সব ফ্লাইট আবার জেদ্দায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন আমি জেদ্দা বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রীর সঙ্গে অবস্থান করছি।'
তিনি আরও লিখেছেন, 'সর্বশক্তিমান আল্লাহই ভালো জানেন, কবে এবং কীভাবে আমরা ঢাকায় ফিরব। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।'
প্রতিমন্ত্রীর অন্যান্য আটকাদের প্রতি আহ্বান
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অন্যান্য আটকা পড়া ব্যক্তিদের প্রতিও শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'দেখুন, আমাদের অন্যান্য যারা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে, শ্রীলংকা থেকে শুরু করে আমাদের খেলোয়াড়রা বা আমাদের বাংলাদেশিরা বিভিন্নভাবে যারা এই জটিলতার কারণে আটকে আছেন, আমরা সকলকেই আহ্বান করছি যাতে তারা সুস্থ শরীরে যাতে সবাই দেশে ফিরে আসতে পারেন। সবার প্রতি আমাদের শুভকামনা।'
এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারি চালাচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মুশফিকুর রহিম সহ অন্যান্য আটকা যাত্রীরা দ্রুত দেশে ফিরতে পারবেন।
