টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিদায়, নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনালে উত্তরণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে কেবল জয়ই নয়, নির্দিষ্ট ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারালেও কাঙ্ক্ষিত নেট রানরেট অর্জন করতে ব্যর্থ হয় সালমান আগার নেতৃত্বাধীন দল। ফলে সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। অন্যদিকে, শ্রেয়তর রানরেটের সুবাদে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
পাকিস্তানের দারুণ ব্যাটিং, কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হয়নি
পাল্লেকেলে মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান দারুণ একটি ইনিংস উপহার দেয়। তারা ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাহেবজাদা ফারহান ঝড়ো ৬০ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন, যাতে ছিল নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তার সঙ্গী ফখর জামানও ৪২ বলে ৯টি চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলেন। তাদের ১৭৬ রানের জুটি পাকিস্তানের ভিত মজবুত করে।
শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণে দিলশান মাদুশকা ৩৩ রানে ৩ উইকেট এবং দাসুন শানাকা ২ উইকেট নেন, কিন্তু পাকিস্তানের রান প্রবাহ রোধ করতে পারেননি।
নেট রানরেটের সমীকরণ ও নিউজিল্যান্ডের সুযোগ
পাকিস্তানের বড় স্কোরের পর নিউজিল্যান্ডকে নেট রানরেটে পেছনে ফেলতে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকাতে হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা দ্রুতগতিতে রান তুলে ১৫.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই নিউজিল্যান্ড নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হয়। চূড়ান্ত হিসাবে, নিউজিল্যান্ডের নেট রানরেট ছিল +১.৩৯০, যেখানে পাকিস্তানের -০.১২৩, যা তাদের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রীলঙ্কার উত্তেজনাপূর্ণ প্রত্যাঘাত
রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কাও পিছিয়ে থাকেনি। ১০১ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও পাবান রত্নায়েকে ষষ্ঠ উইকেটে ৩৩ বলে ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন। পাবান ৩৭ বলে ৫৮ রান করে ফিরে গেলেও শানাকা অপ্রত্যাশিতভাবে ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ রান, এবং শানাকা ৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রান করে একটি চার ও তিনটি ছক্কা মেরে জয়ের সম্ভাবনা জাগান।
জয়ের জন্য মাত্র ছয় রান প্রয়োজন ছিল যখন শাহীন আফ্রিদি টানা দুইটি ওয়াইড ইয়র্কারে ডট বল করে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। শানাকার ইনিংসে ২টি চার ও ৮টি ছক্কা ছিল, এবং সপ্তম উইকেটে তিনি মাত্র ১৫ বলে ৪৫ রান যোগ করেন। শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানে থামে। পাকিস্তানের বোলিংয়ে আবরার আহমেদ ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।
এই ম্যাচে পাকিস্তানের জয় সত্ত্বেও নেট রানরেটের গণনা তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করে, আর নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়ে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করে।
