জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক রঞ্জি ট্রফি জয়: প্রথম শিরোপা অর্জনের মাহেন্দ্রক্ষণ
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়

জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাস গড়া রঞ্জি ট্রফি জয়

ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে আটবারের চ্যাম্পিয়ন কর্নাটকের সঙ্গে ড্র করে প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। ৬৭ বছরের ইতিহাসে এটিই জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম রঞ্জি শিরোপা জয়ের নজির, যা ক্রিকেট বিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ভারতের এই রাজ্যটি নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অতীতে দুটি যুদ্ধও হয়েছে, কিন্তু ক্রিকেট মাঠে এই জয় তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।

অধিনায়কের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক পরস ডোগরা জয়ের পর নিজের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন এটি। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। শুরু থেকেই তারা শতভাগ বিশ্বাস করেছিল, আমরা এই রঞ্জি ট্রফি জিতবো।’ তার এই মন্তব্য দলের একতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়, যা এই সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

ফাইনালের মূল ঘটনাপ্রবাহ

ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়া ওপেনার শুভম পুন্দির ১২১ রানের ইনিংস এবং অধিনায়ক ডোগরার ৭০ রানের অবদানে প্রথম ইনিংসে জম্মু ও কাশ্মীর ৫৮৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে। সিরিজসেরা ডানহাতি পেসার আকিব নবী দার ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কর্নাটককে মাত্র ২৯৩ রানে গুটিয়ে দেন, ফলে জম্মু ও কাশ্মীর ২৯১ রানের লিড পায়। যদিও স্বাগতিকদের ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল ১৬০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন, কিন্তু তা দলের পরাজয় রোধ করতে পারেনি। ফলো অন না করিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ দিনে কামরান ইকবাল (১৬০*) ও সাহিল লোতরা (১০১*) অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। তাদের ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পর দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নেন, যা জম্মু ও কাশ্মীরের জয় নিশ্চিত করে।

উপস্থিতি ও উৎসর্গ

শেষ দিনের খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও সাবেক জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেটার মিঠুন মানহাস এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তারা জয়টি রাজ্যের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেন, যা এই অর্জনের সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে। এই জয় শুধু ক্রিকেট মাঠেই নয়, বরং জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের জন্য আশা ও গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।