জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক রঞ্জি ট্রফি জয়: প্রথমবারের মতো শিরোপা উত্থাপন
জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দল ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর রঞ্জি ট্রফিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শনিবার হুবলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফাইনালের প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষ আটবারের চ্যাম্পিয়ন কর্ণাটকের চেয়ে বেশি রান করায় দলটি এই ঐতিহাসিক শিরোপা জিতেছে।
ফাইনালের পাঁচ দিনে কর্ণাটককে চাপে রাখা
রঞ্জি ট্রফির ফাইনালের পুরো পাঁচ দিন ব্যাটে-বলে কর্ণাটককে কোনো সুযোগই দেয়নি জম্মু-কাশ্মীর। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়ে তাদের হারের শঙ্কা আগেই কমিয়ে দিয়েছিল। পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ৪ উইকেটে ১৮৬ রান নিয়ে।
শেষ দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পর আর কোনো নাটকীয়তার সুযোগ ছিল না। ম্যাচ জয়ের বাস্তব কোনো সমীকরণ বাকি না থাকায় দুই অধিনায়ক ড্র মেনে নিয়ে হাত মেলান। আর তাতেই নিশ্চিত হয় জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মুকুট এখন তাদের মাথায়।
সেঞ্চুরি হাঁকানো তিন ব্যাটসম্যানের ভূমিকা
ফাইনালের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন জম্মু-কাশ্মীরের তিনজন ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মীর তোলে ৫৮৪ রান, ১২১ রান করে বড় ভূমিকা রাখেন শুভম পুন্ডির। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৪২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ১৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন কামরান ইকবাল, ১০১ রানে সাহিল লোতরা।
আকিব নবীর অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্স
জম্মু-কাশ্মীরকে চ্যাম্পিয়ন করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাদের পেসার আকিব নবী। এই টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচে তিনি উইকেট নিয়েছেন ৬০টি, যা সর্বোচ্চ। ফাইনালের প্রথম ইনিংসেও নিয়েছেন ৫ উইকেট।
দীর্ঘ যাত্রার পর প্রথম শিরোপা
১৯৬০ সালে রঞ্জি ট্রফিতে পথচলা শুরু হয় জম্মু-কাশ্মীরের। দলটির প্রথম জয়ের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২২ বছর। ১৯৮২ সালে নিজেদের ৯৯তম ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় তারা। সেই দলটাই এখন চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে।
