২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড পুরস্কার, কিন্তু ইউরোপীয় দলগুলোর আয় কমার শঙ্কা
২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড পুরস্কার, ইউরোপীয় দলগুলোর আয় কমার শঙ্কা

২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড পুরস্কার, কিন্তু ইউরোপীয় দলগুলোর আর্থিক চাপ

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য ফিফা ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে এই রেকর্ড পুরস্কারের মধ্যেও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আয় কমা ও খরচ বাড়ার কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছে।

পুরস্কার বাড়লেও দৈনিক ভাতা কমেছে

ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী, ৬৬.৫০ কোটি ডলার দলগুলোকে অংশগ্রহণ ও টুর্নামেন্টের ফলাফলের ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও প্রতিটি দল অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার পাবে, আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ কোটি ডলারের বেশি। কিন্তু ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও পিএ মিডিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, প্রাইজমানি বাড়লেও ফিফা দলগুলোর জন্য দৈনিক ভাতার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে দৈনিক ভাতা ছিল ৮৫০ ডলার, যা এবার ৬০০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। একটি ফুটবল ফেডারেশন হিসাব করেছে, সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেললে তারা মোট ৫ লাখ ডলার ভাতা কম পাবে।

খরচ বাড়া ও আয় কমার কারণ

২০২৬ বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দলগুলোর ভ্রমণ ও আবাসনের খরচ আগের তুলনায় বেশি হবে। বিশাল ভৌগোলিক এলাকায় যাতায়াতের ফলে এই বাড়তি খরচ ফেডারেশনগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম অতীতের চেয়ে বেশি হওয়ায় অনেক ফেডারেশনকে সমর্থকদের জন্য টিকিট সরবরাহে অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মুদ্রা বিনিময় হার ও করকেন্দ্রিক জটিলতাও আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ফিফা থেকে পাওয়া পুরস্কারের অর্থ সাধারণত ডলারে দেওয়া হয়, কিন্তু গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় মুদ্রার বিনিময় হার কমে যাওয়ায় সেই অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে কম মানের হয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্সের বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান না থাকায়, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো উচ্চ করের রাজ্যগুলোতে খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের আয় ও ভাতার উপর কর প্রযোজ্য হতে পারে, যা ফেডারেশনগুলোর আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

লোকসানের আশঙ্কা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ইউরোপের যেসব দেশ বিশ্বকাপের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষেছে, তারা দেখেছে যে আগের মতো লাভ হবে না অথবা খরচ বাড়ছে। একটি ফেডারেশন শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, যদি তাদের দল গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে বা খুব অল্প ম্যাচ খেলে, তাহলে খরচের তুলনায় আয় কম হবে, এমনকি লোকসানও হতে পারে। ফিফা প্রতিটি দলকে অংশগ্রহণ বাবদ ৯০ লাখ ডলার এবং প্রস্তুতিসহ অন্যান্য খরচের জন্য ১৫ লাখ ডলার দিচ্ছে, কিন্তু এই অর্থ দলগুলোর বর্ধিত খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড পুরস্কার সত্ত্বেও ইউরোপীয় দলগুলোর আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলি টুর্নামেন্টের অর্থনৈতিক দিককে প্রভাবিত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল প্রশাসন ও দলগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে।