রঞ্জি ট্রফিতে ইতিহাস গড়লেন আকিব নবি, জম্মু-কাশ্মিরের প্রথম বোলার হিসেবে রেকর্ড
রঞ্জি ট্রফিতে আকিব নবির ইতিহাস, জম্মু-কাশ্মিরের প্রথম বোলার

রঞ্জি ট্রফিতে আকিব নবির ঐতিহাসিক অর্জন, জম্মু-কাশ্মিরের প্রথম বোলার হিসেবে রেকর্ড

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে জম্মু-কাশ্মির ইতিহাস রচনা করেছে। কর্ণাটকের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তারা ২৯১ রানের বড় লিড নিয়েছে, যেখানে দলের পেসার আকিব নবি তার অসাধারণ বোলিং দক্ষতায় ফাইনালেও দাপট দেখিয়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার জম্মু-কাশ্মিরের প্রথম বোলার হিসেবে এক মৌসুমে সর্বাধিক উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েছেন।

রেকর্ড ভাঙার মুহূর্ত

ফাইনালের প্রথম ইনিংসে আকিব নবি ৫ উইকেট নিয়ে মোট উইকেট সংখ্যা ৬০-এ পৌঁছেছেন। এই রেকর্ডটি আগে উত্তরাখণ্ডের মায়াঙ্ক মিশ্রের দখলে ছিল, যিনি ৫৯ উইকেট শিকার করেছিলেন। আকিবের বোলিংয়ে কর্ণাটক মাত্র ২৯৩ রানে অলআউট হয়, যেখানে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ১৬০ রান করেন এবং প্রসিধ কৃষ্ণা ৫ উইকেট নেন। আকিব নবি মাত্র ২৩ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন, যা তার দক্ষতার প্রমাণ।

জম্মু-কাশ্মিরের শক্তিশালী পারফরম্যান্স

বোলিংয়ে আকিব নবির দাপটে জম্মু-কাশ্মির প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান সংগ্রহ করেছে। সুভম পুন্ডি সর্বোচ্চ ১২১ রান করে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও জম্মু-কাশ্মির ভালো শুরু করেছে; ৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর তাদের লিড ৩৬৮ রানে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।

রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে আকিব নবির স্থান

রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে নির্দিষ্ট একটি মৌসুমে ৬০ বা তার বেশি উইকেট শিকার করা মাত্র সপ্তম বোলার হিসেবে আকিব নবি নাম লিখিয়েছেন। বর্তমানে তার উইকেট সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে এই তালিকায় আরও উপরে উঠতে সাহায্য করতে পারে। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় এখন পর্যন্ত যারা আছেন:

  • হার্শ দুবে (বিদর্ভ, ২০২৪-২৫): ৬৯ উইকেট
  • আশুতোষ আমান (বিহার, ২০১৮-১৯): ৬৮ উইকেট
  • জয়দেব উনাদকাট (সৌরাষ্ট্র, ২০১৯-২০): ৬৭ উইকেট
  • বিশান সিং বেদি (দিল্লি, ১৯৭৪-৭৫): ৬৪ উইকেট
  • দুদা গণেশ (কর্ণাটক, ১৯৯৮-৯৯): ৬২ উইকেট
  • কনওয়ালজিত সিং (হায়দ্রাবাদ, ১৯৯৯-২০০০): ৬২ উইকেট
  • আকিব নবি (জম্মু-কাশ্মির, ২০২৫-২৬ চলমান): ৬০* উইকেট

এই সাফল্য শুধু আকিব নবির ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং জম্মু-কাশ্মির ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক। ফাইনালের বাকি অংশে তার পারফরম্যান্স দলকে প্রথম শিরোপা জয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা অঞ্চলের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।