অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের জয়, সেমিফাইনালের দৌড়ে জোরালো অবস্থান
নিউজিল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জয়, সেমিফাইনালের দৌড়ে জোরালো

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের জয়, সেমিফাইনালের দৌড়ে জোরালো অবস্থান

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দল একটি চমকপ্রদ জয় পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ম্যাচে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি কিউই দলের। তবে শেষ মুহূর্তের দারুণ প্রত্যাবর্তনে তারা ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

শুরুতে ধীরগতির ইনিংস, মাঝপথে সংকট

ম্যাচ শুরু হয় শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকার টস জয়ের মাধ্যমে, যিনি নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু সফরকারী দলের ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্ট দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ হন। মাঝের সারির ব্যাটসম্যানরাও দ্রুত আউট হয়ে যান, ফলে ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ৩ উইকেটে ৭৫ রান। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তাদের সবচেয়ে ধীরগতির অর্ধশতক।

শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণে স্পিনার মাহিশ থিকশানা ও পেসার দুশমান্থা চামিরা নিয়মিত উইকেট তুলে নেন। ১২.১ ওভারে নিউজিল্যান্ডের স্কোর নেমে আসে ৬ উইকেটে ৮৪ রানে। এই পর্যায়ে ম্যাচে তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি বলে মনে হচ্ছিল।

স্যান্টনার-ম্যাককনচির রেকর্ড জুটি, ম্যাচ উল্টে দেয়া ইনিংস

তবে সপ্তম উইকেটে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককনচি একটি অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে তোলেন। তারা ৮৪ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ করেন, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ। শেষ চার ওভারে তারা ৭০ রান তুলে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেন।

স্যান্টনার ২৬ বলে ৪৭ রান করে শেষ বলে আউট হলেও ম্যাককনচি ২৩ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন। তাদের এই ঝড়ো ইনিংসের ফলে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ১৬৮ রানের একটি লড়াকু সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়। মন্থর উইকেটে এই লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

বোলিংয়ে রবীন্দ্রর নৈপুণ্য, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ধস

১৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ শুরু থেকেই চাপে পড়ে। প্রথম বলেই ইন-ফর্ম ব্যাটসম্যান পাথুম নিশাঙ্কাকে আউট করেন ম্যাট হেনরি। পরের ওভারেই চারিথ আসালাঙ্কা প্যাভিলিয়নে ফেরেন। পাওয়ারপ্লেতে শ্রীলঙ্কা মাত্র ২ উইকেটে ২০ রান তুলতে পারে।

মাঝের সারিতে কুশল মেন্ডিস ও পবন রত্নায়েকেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্পিনার রাচিন রবীন্দ্র পরপর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচের অপ্রত্যাশিত নায়কে পরিণত হন।

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ইনিংস ১৮ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৭ রানে থেমে যায়। তারা ১০০ রানের মাইলফলকও ছুঁতে পারেনি, যা নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের দক্ষতাকে তুলে ধরে।

টুর্নামেন্টের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ম্যাচ

এই বড় জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড নেট রানরেটে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে, যা সেমিফাইনালের দৌড়ে তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের ফলে শ্রীলঙ্কার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।

এখন সেমিফাইনালের লড়াই আরও জমে উঠেছে। নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচ হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যা তাদের জন্য একটি চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে, যেখানে উভয় দলই জয়ের জন্য মরিয়া। এই ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।