নাটকীয়তায় শেষ ষোলোতে পিএসজি, মোনাকোর লাল কার্ডে মোড় ঘুরল ম্যাচ
নাটকীয়তায় শেষ ষোলোতে পিএসজি, মোনাকোর লাল কার্ডে মোড় ঘুরল

নাটকীয়তায় শেষ ষোলোতে পিএসজি, মোনাকোর লাল কার্ডে মোড় ঘুরল ম্যাচ

গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়া প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি) এবার প্লে-অফ পেরিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেশ নাটকীয়তায়। ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বী মোনাকোর সাথে দ্বিতীয় লেগে ২-২ গোলে ড্র করলেও প্রথম লেগে ৩-২ ব্যবধানের জয় তাদের রক্ষা করেছে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে থেকেই পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: কুলিবালির লাল কার্ড

ম্যাচের বড় মোড় ঘুরে যায় ৫৮ মিনিটে। মোনাকোর ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার মামাদু কুলিবালি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। কাভারৎস্খেলিয়াকে ফাউল করার দায়ে পাওয়া সেই কার্ডই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়। যদিও শুরুর দিকে দাপট ছিল মোনাকোরই। প্রথমার্ধে মাঘনেশ অ্যাকলিউশের গোলে এগিয়েও যায় তারা। কুলিবালির বিদায়ের আগ পর্যন্ত খেলার নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই তাদের হাতে ছিল।

পিএসজির ঘুরে দাঁড়ানো

কিন্তু সংখ্যাগত সুবিধা পেয়ে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে পিএসজি। ফ্রি-কিক থেকে মার্কিনিয়োস সমতা ফেরান, ছয় মিনিট পর খিচা কাভারৎস্খেলিয়া দলকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে জর্ডান তেজে গোল করে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিলেন। তবে সময় ফুরিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায়ই সন্তুষ্ট থাকতে হয় মোনাকোকে। পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়েই ছিল পিএসজি। বল দখলে তাদের আধিপত্য ছিল ৬৮ শতাংশ। ২১টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে তারা, বিপরীতে মোনাকোর ৯ শটের ৩টি ছিল অন টার্গেটে।

কোচদের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে মোনাকো কোচ সেভাস্তিয়েন পোকোগনলি বলেন, কুলিবালির লাল কার্ডই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। তার মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো কঠোর সিদ্ধান্ত। তবু দল প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে ভালো লড়াই করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে স্বীকার করেন, প্রথমার্ধ ছিল কঠিন। তার ভাষায়, দল এমন পারফরম্যান্সে অভ্যস্ত নয়। তবে পুরো মৌসুমেই তারা ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখিয়েছে, এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

পিএসজির ইতিহাসে মাইলফলক

উল্লেখ্য, গত আট মৌসুমে পাঁচবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল পিএসজি। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এবার আর সেই ভুল করেনি—কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জায়গা করে নিয়েছে সেরা ১৬-এ। এই সাফল্য দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর জন্য।