শ্রীলঙ্কার বিদায় নিশ্চিত, নিউজিল্যান্ডের সেমি-ফাইনালের পথে অগ্রগতি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে একটি নাটকীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে নিউজিল্যান্ড। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে ১৬৮ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে। জবাবে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১০৭ রানেই অল আউট হয়ে যায়, যা তাদের টানা তিন হার নিশ্চিত করে এবং প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট থেকে বিদায়ের পথ প্রশস্ত করে।
নিউজিল্যান্ডের সংগ্রামী ইনিংস ও রেকর্ড জুটি
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না। ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপসের মতো ব্যাটসম্যানরা দ্রুত আউট হয়ে যান, যা দলকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। ড্যারেল মিচেল ও মার্ক চ্যাপম্যানও ব্যর্থ হলে মাত্র ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কিউই দল বিপদে পড়ে। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাকঙ্কি অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শন করে দলকে উদ্ধার করেন।
দুইজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৪৭ বলে ৮৪ রানের একটি ঐতিহাসিক জুটি, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পূর্বে এই রেকর্ডটি ছিল মাইক হাসি ও স্টিভেন স্মিথের ৭৪ রানের, বাংলাদেশের বিপক্ষে। স্যান্টনার ইনিংসের শেষ বলে আউট হন, যিনি মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রান করেন ২ চার ও ৪ ছক্কার সাহায্যে। অন্যদিকে, ম্যাকঙ্কি ২৩ বলে ৩১ রান করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যান।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং বিপর্যয় ও নিউজিল্যান্ডের বোলিং আধিপত্য
শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরু হয় ভয়াবহভাবে, যখন প্রথম বলেই পাথুম নিসাঙ্কাকে বোল্ড করে দেন ম্যাট হেনরি। এরপর লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা ক্রমাগত উইকেট হারাতে থাকে, এবং ৮.২ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ২৯ রানে ৪ উইকেট। এই ধাক্কা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিক দল। কামিন্দু মেন্ডিস ২৩ বলে ৩১ রান এবং দুনিথ ওয়েলালাগে ২৩ বলে ২৯ রান করে দলকে একশ রানের মাইলফলক অতিক্রম করাতে সাহায্য করলেও, তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে রাচিন রবীন্দ্র ২৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন, যা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাট হেনরি দুই ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৩ রানে ২ উইকেট নেন, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মাহিশ থিকশানা ও দুশমন্থ চামিরা ৩টি করে উইকেট নিলেও, তা দলের পরাজয় রোধ করতে পারেনি।
ম্যাচের প্রভাব ও টুর্নামেন্টের দৃশ্যপট
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড সুপার এইটের দ্বিতীয় গ্রুপে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেমি-ফাইনালের দিকে কিছুটা এগিয়ে যায়। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার টানা তিন হার তাদের জন্য বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়, যা টুর্নামেন্ট থেকে প্রথম দল হিসেবে তাদের প্রস্থান নিশ্চিত করে। এই পরাজয়ে পাকিস্তানের মতো দলের জন্য সেমি-ফাইনালের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ গ্রুপে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে।
ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে, যেখানে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রামী মনোভাব এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং বিপর্যয় ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃশ্য উপস্থাপন করেছে।
