বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে চান না লিওনেল মেসি, কারণ ব্যাখ্যা করলেন
বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে চান না মেসি

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র চার মাসেরও কম সময় বাকি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কাতারে শিরোপা জয়ের পর এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে টুর্নামেন্টের পূর্বে একটি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি প্রকাশ করেছেন যে বিশ্বকাপে আর কখনো মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে তাঁর আগ্রহ নেই।

পডকাস্টে মেসির খোলামেলা স্বীকারোক্তি

নাহুয়েল গুজমানের সঙ্গে ‘মিরো দে আত্রাস’ নামক একটি পডকাস্টে আলোচনায় অংশ নিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। মেসি সেখানে বলেছেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করলেও সেই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত চাপপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, সেদিন হারলে আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হতো, যা দলের জন্য ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

মেক্সিকোকে কেন এড়াতে চান মেসি?

মেসি স্বীকার করেছেন যে ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা কিছুটা ভয় ও চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিল। আগেভাগে বাদ পড়ার শঙ্কা দলকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরিসংখ্যানগত দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও মেসি মেক্সিকোকে সবসময়ই একটি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর মতে, মেক্সিকোর বল নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের গতি ঠিক রাখার ক্ষমতা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা এমন যে তারা শক্তিশালী দলগুলোকেও চাপে ফেলতে সক্ষম।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। স্বাগতিক দেশ হিসেবে মেক্সিকো ঘরের মাঠের সমর্থন ও পরিচিত পরিবেশের সুবিধা পাবে, যা প্রতিপক্ষ দলের জন্য একটি বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। মেসি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘নিজেদের মাঠে খেলার আলাদা প্রভাব থাকে,’ এবং তাই তিনি টুর্নামেন্টের শুরুতেই মেক্সিকোর মুখোমুখি না হওয়ার আশাই প্রকাশ করেছেন।

গ্রুপ পর্বে দেখা হবে না দুই দলের

উল্লেখ্য, আসন্ন বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর মধ্যে সরাসরি দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে মেক্সিকো, অন্যদিকে ‘জে’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে আছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। তবে নকআউট পর্বে যদি দুটি দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে মেসির এই মন্তব্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।

মেসির এই বক্তব্য ফুটবল বিশ্বে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন আর্জেন্টিনা তাদের শিরোপা রক্ষার চেষ্টা করবে এবং মেক্সিকো স্বাগতিক সুবিধা নিয়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চাইবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মেসির এই স্বীকারোক্তির পর।