ইরফান পাঠানের অভিযোগ: পাকিস্তানি মিডিয়া নিজেদের দল হারলে গর্তে লুকায়
ক্রিকেট বিশ্বে ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমের মধ্যে পরস্পরকে খোঁচা দেওয়ার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। বরাবরের মতো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মুখোমুখি লড়াই হলে এই ঠাট্টা-বিদ্রূপ আরও তীব্র হয়। সম্প্রতি চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে এই মিডিয়া সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান।
মিডিয়ার ট্রল সংস্কৃতি ও ইরফানের মন্তব্য
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সুপার এইট পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে খেলার আশা ক্ষীণ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে ইরফান পাঠান লিখেছেন, 'পাকিস্তান দল চাপ সামলাতে পারে না এবং তাদের ভোগান্তির পেছনে মিডিয়ার লাগাতার ট্রলের ভূমিকা আছে।'
তার মতে, পাকিস্তানি মিডিয়া নিজেদের দলকেই অতিরিক্ত চাপে রাখে। সমর্থনের বদলে তারা খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা মূলত জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কৌশল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ভারত হেরে গেলে (যেটা বিরল) তারা সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন ভাসিয়ে ফেলে। কিন্তু তাদের নিজেদের দল হেরে গেলে তারা ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে পড়ে।'
ভারত-পাকিস্তান মিডিয়ার পারস্পরিক ব্যঙ্গ
এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যঙ্গ করে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল একটি ভারতীয় গণমাধ্যম। তবে প্রোটিয়াদের কাছে হারের পর সেই বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়া হয়। এর জবাবে ভারতকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের একটি গণমাধ্যমও ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা চালায়। ইরফান পাঠান এই প্রসঙ্গে বলেন, 'তারা আমাদের সঙ্গে না খেললে আমরা এসব নিয়ে ভাবিই না। আমরা শুধু নির্দিষ্ট খেলা নিয়ে কাজ করি।'
সুপার এইট পর্বের কঠিন সমীকরণ
বর্তমানে সুপার এইট পর্বে দুই দলই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পাকিস্তান তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে কার্যত বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর ভারতের সেমিফাইনালে খেলার আশাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলেই কেবল তারা সেমিফাইনালের টিকিট পেতে পারে।
এই প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে মিডিয়ার ভূমিকা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ইরফান পাঠানের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে কীভাবে মিডিয়ার চাপ খেলোয়াড়দের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
