হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে উত্তরণ, পাকিস্তানের বিদায়ের শঙ্কা
ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে, পাকিস্তান শঙ্কায়

হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে উত্তরণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। টানা দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে দলটি শীর্ষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ সেঞ্চুরি জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।

পাকিস্তানের ব্যাটিং: সীমিত সংগ্রহ

সুপার এইটের এই ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে তারা ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৬৪ রান করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের পক্ষে ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ৪৫ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৬৩ রান করেন, যা দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এছাড়া শাদাব খান ১১ বলে ২৩ রান, ফখর জামান ১৬ বলে ২৫ রান এবং বাবর আজম ২৫ রান করে দলের সংগ্রহকে কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেন।

ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে লিয়াম লিভিংস্টোনের পরিবর্তে লিয়াদ দাউসন ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। জোফরা আর্চার ও জেমি ওভারটন দুজনেই দুটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রান প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

ইংল্যান্ডের জয়: ব্রুকের তাণ্ডব

১৬৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা ভালো করতে পারেনি। ইনিংসের প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান ওপেনার ফিল সল্ট। দলীয় সংগ্রহ ১৭ রানে ফেরেন জস বাটলার, ৩৫ রানে জ্যাকব বেথেল এবং ৫৮ রানে টম ব্যান্টন। ব্যাটসম্যানদের এই দ্রুত পতনের মাঝে একাই দাঁড়িয়ে যান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক।

ব্রুক ৫১ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে দ্রুতগতির ১০০ রানের একটি সেঞ্চুরি করেন। দলের জয়ের জন্য যখন মাত্র ১৯ বলে ১০ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে তিনি ফিরে যান। তার এই ইনিংসটি ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। ব্রুকের পর উইল জ্যাকস ২৩ বলে ২৮ রান করে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান।

ম্যাচের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৮ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। তখন জেমি ওভারটন ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান। ১৯ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৬২ রান। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩ রান, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ২ উইকেট। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলেই জোফরা আর্চার একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের প্রভাব: পাকিস্তানের বিদায়ের শঙ্কা

এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এই পরাজয়টি গুরুতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপার এইট পর্বে তাদের বিদায়ের সম্ভাবনা এখন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। দলটিকে এখন অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে জয়লাভের উপর জোর দিতে হবে, নতুবা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হতে পারে।

হ্যারি ব্রুকের এই সেঞ্চুরিটি নিঃসন্দেহে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড এখন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি একটি রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।