টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রেকর্ড হার: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে পরাজয়
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রেকর্ড হার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রেকর্ড ভাঙা হার: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে পরাজয়

আহমেদাবাদের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। এই ফলাফলে সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।

ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

এত দিন পর্যন্ত ভারতের বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে। কিন্তু এই ম্যাচে ৭৬ রানের ব্যবধানে পরাজয় সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝের সময়ে ভারত ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল, যা তাদের ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

ম্যাচের বর্ণনা: ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়

আহমেদাবাদের ম্যাচটিতে ভারত রান তাড়ার শুরুতেই খেই হারিয়েছে। প্রথম ওভারে ঈশান কিষান এবং দ্বিতীয় ওভারে তিলক বর্মাকে হারিয়ে ভারত ৫ রানে হারায় ২ উইকেট। শুরুর এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি স্বাগতিক দল। অভিষেক শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও যখন ফেরেন, তখন ভারতের রান ৫ উইকেটে মাত্র ৫১ রানে দাঁড়ায়।

এরপর শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়ার ষষ্ঠ উইকেট জুটি কিছুক্ষণ টিকলেও, বাড়তে থাকা রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের ১৫তম ওভারে কেশব মহারাজ বোলিংয়ে এসে ৩৫ রানের জুটিটিই ভাঙেননি, বরং এক ওভারের মধ্যে তুলে নেন পান্ডিয়া, রিংকু ও অর্শদীপের তিন উইকেট, যা ভারতের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

দুবে-র একক প্রচেষ্টা

এরপর শিবম দুবে কয়েকটি বড় শটে দলকে এক শ রানের পার করিয়ে হারের ব্যবধান কমাতে চেষ্টা করেছেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ৩ ছক্কা ও ১ চারে ৩৭ বলে করেছেন ৪২ রান, যা ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। তবে তার এই প্রচেষ্টা দলের হার রোধ করতে পারেনি, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দৃঢ়ভাবে জয় পেয়েছে।

এই ম্যাচটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর জন্য নতুন কৌশল ও প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় তাদের সুপার এইট পর্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, এবং ক্রিকেট বিশ্বে এই ফলাফল নিয়ে আলোচনা চলছে।