দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে ভারতের শোচনীয় পরাজয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের পথে এগোলো প্রোটিয়ারা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নাকানি চুবানি খেলেছে ভারত। রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮৮ রানের টার্গেট তাড়াতে নেমে ভারত হেরে যায় ৭৬ রানে। এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালের দিকে একধাপ এগিয়ে গেছে, যা তাদের টুর্নামেন্টে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দৃঢ় ব্যাটিং প্রদর্শন
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুতে তারা কিছুটা বিপাকে পড়লেও দ্রুতই অবস্থা সামলে নেয়। ইনিংসের প্রথম ৪ ওভারে মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারালেও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ডেভিড মিলারের দারুণ পার্টনারশিপ দলকে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। তারা চতুর্থ উইকেটে ৫১ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোরকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করেন, যেখানে মিলার ৩৫ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবসের অপরাজিত ৪৪ রানের দ্রুতগতির ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই সংগ্রহটি পরবর্তীতে জয়ের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়।
ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়
১৮৮ রানের টার্গেট তাড়াতে নেমে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। ইনিংসের শুরুতেই তারা উইকেট হারাতে শুরু করে, মাত্র ২৬ রানেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায়। উইকেট পতনের এই ধারাবাহিকতা ১৫ ওভার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তখন ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে মাত্র ৮৮ রান।
শেষ দিকে শুভম দুবে ৪২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও তা দলের পরাজয় রোধ করতে পারেনি। ভারত শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়, যা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের সামনে সম্পূর্ণভাবে নতিস্বীকার করে। জসপ্রিত বুমরাহ ও আর্শদীপ সিং ভারতের পক্ষে যথাক্রমে ৩ ও ২ উইকেট শিকার করলেও তা জয় এনে দিতে ব্যর্থ হয়।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য খবর
প্রসঙ্গত, সুপার এইট পর্বের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার খেলাটি ২১ ফেব্রুয়ারি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে, ২২ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ড ৫১ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে, যা তাদেরকেও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। এই ফলাফলগুলি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে প্রতিটি দল সেমিফাইনালের জন্য লড়াই করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয় শুধুমাত্র তাদের পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে দেয়নি, বরং ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের আত্মবিশ্বাসকেও শাণিত করেছে। আগামী ম্যাচগুলিতে তারা এই গতি বজায় রাখতে পারলে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ আরও সুগম হবে।
