বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত: প্রধান নির্বাচক হতে আবেদন ও পরীক্ষা দিতে হবে হাবিবুল বাশারকে
বিসিবির নতুন নিয়ম: প্রধান নির্বাচক হতে আবেদন ও পরীক্ষা দিতে হবে

বিসিবির নতুন নিয়মে প্রধান নির্বাচক নিয়োগে আবেদন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক নিয়োগে নতুন একটি প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবটি বিসিবির দিক থেকেই এসেছে, যেখানে হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক হতে হলে আবেদন করতে হবে এবং একটি 'পরীক্ষা' পাস করতে হবে। হাবিবুল বাশার বিসিবির প্রস্তাব নিয়ে ভেবে দেখতে কিছু সময় চেয়ে নিয়েছিলেন এবং পরে রাজি হয়েছেন। তবে গতকালের ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় এই নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা হাবিবুলকে অবাক করেছে।

গাজী আশরাফের মেয়াদ ও সাময়িক দায়িত্ব

বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেনের মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। বিসিবি প্রথমে তাঁকে আরও কয়েক মাস দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনুরোধ করলেও গাজী আশরাফ ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন। গতকালের বোর্ড সভায় হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায়, গাজী আশরাফকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও 'সীমিত সময়ের' জন্য দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হবে। আগামী মাসে পাকিস্তান দল ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে, সে পর্যন্ত গাজী আশরাফকেই দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ও আবেদনের আহ্বান

হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করা হঠাৎ আটকে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বিসিবির নতুন সিদ্ধান্ত। গতকালের বোর্ড সভায় ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন হাবিবুলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু বিসিবির পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ প্রস্তাব দেন যে, নির্বাচক কমিটিতে যিনিই আসুন, একটি প্রক্রিয়া থাকা উচিত। এই চিন্তা থেকে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিসিবি নির্বাচক চেয়ে বিজ্ঞাপন দেবে। আগ্রহীদের আবেদনের পর সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধু যোগ্য প্রধান নির্বাচকই নয়, প্রয়োজনে নতুন আরও নির্বাচক নেওয়া হতে পারে।

আবদুর রাজ্জাক বিসিবির পরিচালক হওয়ার পর জাতীয় নির্বাচক কমিটি মাত্র দুজন সদস্য নিয়ে চলছে, তাই প্রধান নির্বাচক ছাড়া আরও একজন নতুন নির্বাচক নেওয়া জরুরি। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বিসিবিতে বর্তমানে পাঁচজন নির্বাচক আছেন—মেহরাব হোসেন, এহসানুল হক, নাদিফ চৌধুরী, ইলিয়াস সানি ও আনোয়ার হোসেন। চাইলে তাঁরাও জাতীয় নির্বাচক হতে আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ কমিটি ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা

ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান নাজমূল আবেদীনের সঙ্গে প্রধান নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এবং দুই পরিচালক খালেদ মাসুদ ও আবদুর রাজ্জাক। বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, 'অনেকে হয়তো মনে করেন, বিসিবি কি আমাকে নেবে নাকি! আমরা এই ভুল ধারণাটা ভেঙে দিতে চাই। যিনিই নিজেকে যোগ্য মনে করেন, তিনি আবেদন করতে পারবেন। এভাবে আমাদের অপশনও বাড়বে।'

সূত্র জানিয়েছে, বিসিবি সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচক নিয়োগের পথে হাঁটলেও প্রধান নির্বাচক শেষ পর্যন্ত হাবিবুল বাশারেরই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাঁর চেয়ে যোগ্য কাউকে এই মুহূর্তে বিসিবি দেখছে না। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোর্ড অন্য আগ্রহীদের সম্পর্কেও ধারণা পেতে চায়। হাবিবুল বাশার ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত প্রায় আট বছর বিসিবির নির্বাচক কমিটির সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন একই দায়িত্বে থাকার পর ২০২৪ সালে সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও হাবিবুলের চুক্তি নবায়ন করেনি বিসিবি।

অন্যান্য দায়িত্ব ও মেয়েদের বিপিএল

২০২৪ সালের মার্চে গাজী আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচক কমিটি গঠিত হয়, যেখানে আগের কমিটির শুধু আবদুর রাজ্জাকই ছিলেন। দুই বছরের চুক্তিতে গাজী আশরাফের সঙ্গে যোগ দেন হান্নান সরকারও, যিনি এক বছর নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবার কোচিংয়ে ফিরে যান। নির্বাচক কমিটিতে না থাকলেও বিসিবিতে অন্য দায়িত্ব নিয়ে থেকে যান মিনহাজুল ও হাবিবুল। হাবিবুলকে প্রথমে নারী ক্রিকেটের হেড অব অপারেশনস পদে দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকে এখন তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। মিনহাজুলকে দেওয়া হয়েছে বিসিবির প্রধান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব।

এদিকে, বিসিবির সভায় মেয়েদের প্রথম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) টি-টুয়েন্টির সূচিও অনুমোদন হয়েছে। টুর্নামেন্টটি ৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ফাইনাল ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে লিগ পর্ব শেষে ফাইনাল হবে ঢাকায়। প্লেয়ার্স ড্রাফট হবে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে।