আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কঠোর নীতি: কোচদের এখন দেশেই থাকতে হবে
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবার শুধু নামি কোচ নিয়োগেই থেমে নেই, বরং দায়িত্ব পালনের ঠিকানা স্পষ্ট করে দিতে চাইছে। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিব খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের পরবর্তী প্রধান কোচ এবং বিদেশি সহকারী কোচদের ডিউটি স্টেশন হবে আফগানিস্তান। এমনকি অফ সিজনেও তাদের কাজ করতে হবে দেশের মাটিতেই।
কোচদের চুক্তিতে কর্মস্থল শর্ত
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর প্রধান কোচ জনাথন ট্রট পদত্যাগ করেছেন। তার বিদায়ের পরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। নাসিব খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোচদের চুক্তিপত্রেই উল্লেখ থাকবে যে তাদের কর্মস্থল আফগানিস্তান। বোর্ড চায় জাতীয় দলের কোচরা ঘরোয়া ক্রিকেট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুক, নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করুক এবং সিরিজ না থাকলে জাতীয় দলের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করুক।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উন্নতি
বোর্ডের লক্ষ্য হলো উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া। আফগানিস্তানের সামনে ব্যস্ত সূচি রয়েছে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলবে তারা। বোর্ড চায় এই সিরিজের আগেই নতুন প্রধান কোচের নাম ঘোষণা করতে। নাসিব খান জানান, বোর্ডের মানবসম্পদ বিভাগ ও টেকনিক্যাল কমিটি ইতিমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।
সংক্ষিপ্ত তালিকা ও সাক্ষাৎকার
তিন জন কোচকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। শর্টলিস্টে থাকা কোচদের মধ্যে দুই জন দক্ষিণ আফ্রিকার এবং একজন এশীয়। তবে এখনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
দর্শনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
এই সিদ্ধান্ত আফগান ক্রিকেটের দর্শনে একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অতীতে বিদেশি কোচরা অধিকাংশ সময় বিদেশে অবস্থান করতেন, কিন্তু এবার বোর্ড চায় তারা দেশেই থাকুক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর এই কৌশলগত পরিবর্তনকে পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে বোর্ড।
লক্ষ্য ও দায়িত্ব
লক্ষ্য স্পষ্ট: শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই নয়, ঘরোয়া ভিত্তিকেই শক্ত করতে হবে। কোচদের দায়িত্ব তাই হবে মাঠের ভেতরে এবং বাইরে সমান গুরুত্ব দেওয়া, যা আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যত গড়তে সহায়ক হবে।
