টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের রেকর্ড: প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে নিরাপদ অবস্থান
বাংলাদেশের স্টার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারের রেকর্ডটি আপাতত ধরে রাখতে চলেছেন। এই টুর্নামেন্টে তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০টি, যা বর্তমানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সাকিবের এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা, শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং আফগানিস্তানের রশিদ খান, কিন্তু বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে এই তিন স্পিনারই ছিটকে যাওয়ায় সাকিবের অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিদায় ও সাকিবের সুবিধা
অ্যাডাম জাম্পার অস্ট্রেলিয়া এবং রশিদ খানের আফগানিস্তান দল বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের রেকর্ড তাড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ক্ষেত্রে চোট একটি প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচেই তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান, যার ফলে তাঁর বিশ্বকাপ প্রচেষ্টা অকালেই শেষ হয়ে যায়। হাসারাঙ্গা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন দারুণভাবে, প্রথম ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়ে, কিন্তু চোটের কারণে তিনি মাত্র ৪০ উইকেটে থেমে যান।
জাম্পা বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন, কাল ওমানের বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪টি। এটি সাকিবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, কিন্তু জাম্পার দল আর এগোতে না পারায় তাঁর রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কমে গেছে। রশিদ খান এই বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেননি, মাত্র ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি ৪৩ উইকেট নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ
টুর্নামেন্টে টিকে থাকা বোলারদের মধ্যে সাকিবকে ছুঁতে পারেন দুজন: দক্ষিণ আফ্রিকার আনরিখ নর্কিয়া এবং ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। দুজনেরই বর্তমান উইকেট সংখ্যা ৩৭টি, যা সাকিবের ৫০ উইকেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। আদিল রশিদ ইংল্যান্ডের মূল বোলার হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন। ইংল্যান্ড যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন, কিন্তু সাকিবকে ছাড়াতে তাঁর প্রয়োজন হবে ১৪ উইকেট, যা একটি কঠিন কাজ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
নর্কিয়ার ক্ষেত্রেও একই রকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নিয়েছেন, এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনালে খেললেও তিনি কতগুলো ম্যাচে অংশ নেবেন তা অনিশ্চিত। তাই, সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে সাকিব আল হাসান একটি নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন এবং টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এই রেকর্ডটি ধরে রাখার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
