নেইমারের অবসরের ইঙ্গিত: বিশ্বকাপ স্বপ্ন ও শারীরিক সংকট
ব্রাজিল ও সান্তোস ফরোয়ার্ড নেইমার তাঁর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ২০০৯ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, সান্তোসের জার্সি গায়ে শুরু করা তাঁর যাত্রা হয়তো চলতি বছর ডিসেম্বরে শেষ হতে পারে। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা খেলোয়াড় ব্রাজিলের অনলাইন চ্যানেল কেজ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
সান্তোসে প্রত্যাবর্তন ও চুক্তির মেয়াদ
গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের আল হিলাল থেকে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। তিনি ক্লাবটির সঙ্গে এ বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন। তবে, ক্রমাগত চোটে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি সান্তোসকে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গত ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করানোর পর জানুয়ারিতে ব্রাজিলিয়ান মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারেননি তিনি। গত সপ্তাহে মাঠে ফিরলেও ফিটনেস সমস্যা রয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন ও জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা
নেইমার এ বছর দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে মরিয়া। কিন্তু সবার আগে তাঁকে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরতে হবে, যা গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চোটের কারণে সম্ভব হয়নি। ব্রাজিল জাতীয় দলে তাঁর সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি গত বছর মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেইমারকে ডাকেননি, তবে দরজা খোলা রাখার কথা বলেছেন। পুরো ফিটনেস ফিরে পাওয়াই এখন প্রধান শর্ত।
অবসরের ভাবনা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ক্রমাগত চোট নেইমারকে ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। আগামী বছর সম্পর্কে তিনি অনিশ্চিত, এমনকি এ বছরের বাকি সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এখন থেকে কী হবে আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব।’ সান্তোসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা তাঁর হৃদয়ের ডাকের ওপর নির্ভর করবে।
মাঠে ফেরা ও ফিটনেস সংকট
সাও পাওলো চ্যাম্পিয়নশিপে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে সান্তোসের ৬-০ গোলে জয়ের ম্যাচে মাঠে ফিরেন নেইমার। গোল না পেলেও গোল করানোয় ভূমিকা রেখে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেন। চোট ও অস্ত্রোপচারের পর দুই মাসের বেশি সময় পর এই প্রত্যাবর্তন ঘটে। ব্রাজিলে নতুন মৌসুমের শুরু থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। ফিটনেস সমস্যার প্রসঙ্গে নেইমার স্বীকার করেছেন, ‘দলকে সেরাভাবে সাহায্য করতে আমি ফিরতে চেয়েছি, কিন্তু শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে নিজেকে সংযত রাখতে হয়েছে।’
সান্তোস বাঁচানো ও চোটের মূল্য
গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগে অবনমনের শঙ্কায় পড়েছিল সান্তোস। দলকে বাঁচাতে শেষ তিন ম্যাচে চোট নিয়েই খেলেন নেইমার, এবং সান্তোস জিতে শীর্ষ লিগে টিকে থাকে। তবে, চোট পাওয়ায় এর মূল্য দিতে হয় তাঁকে, এবং বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনা ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ বছর
নেইমার জানেন, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ বছরটা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে খেলতে হলে ব্রাজিল দলে ফিরতে হবে, এবং সান্তোসের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে। তিনি স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপে খেলতে আনচেলত্তির স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। ২০২৬ সাল সান্তোস, ব্রাজিল দল এবং তাঁর নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং যদি ডিসেম্বরে অবসর নেন, তাহলে শেষবেলায় ভালো করতে চাইবেন। তিনি বলেছেন, ‘এ বছরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও, কারণ এটি বিশ্বকাপের বছর। আমি এ মৌসুমে শতভাগ খেলতে চাই।’
ক্যারিয়ারের অর্জন ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। ইউরোপে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ, এবং পিএসজির হয়ে লিগ শিরোপা জিতেছেন। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল, যেখানে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।
