বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে দুই ক্রিকেটার কোমায় গিয়েছিলেন: সালাহউদ্দিনের অভিযোগ
বিশ্বকাপে না খেলায় দুই ক্রিকেটার কোমায় গিয়েছিলেন

বিশ্বকাপে খেলতে না পেরে দুই ক্রিকেটার কোমায় গিয়েছিলেন: সালাহউদ্দিনের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশায় দুই ক্রিকেটার কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পাঁচদিন ধরে তারা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। সালাহউদ্দিন দাবি করেছেন, তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনা তার কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

আসিফ নজরুলকে 'মিথ্যুক' বললেন সালাহউদ্দিন

সালাহউদ্দিন শুক্রবার সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে সরাসরি 'মিথ্যুক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'উনি একজন শিক্ষক মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মানুষ এভাবে মিথ্যা কথা বলছেন, আমরা এটা মেনে নিতে পারছি না।' আসিফ নজরুল প্রথমে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের। পরে তিনি ইউ-টার্ন নিয়ে বলেছেন, বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তে খেলা হয়নি। সালাহউদ্দিন এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ।

বিশ্বকাপ বাদ পড়ার পটভূমি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ তাদের সব ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাতে কর্ণপাত করেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দেয়। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের জন্য মারাত্মক হতাশার সৃষ্টি করে।

ক্রিকেটারদের স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা

সালাহউদ্দিন বলেন, 'একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপে খেলে, তার ২৭ বছরের স্বপ্ন তাকে এখানে নিয়ে আসে। স্বপ্নটা আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিলেন।' তিনি যোগ করেন, 'চিন্তা করেন, বিশ্বকাপে খেলব আমরা, এক বছর আগে থেকেই স্বপ্ন দেখেছি। যে ক্রিকেটার, যে অধিনায়ক এক-দেড় বছর ধরে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, তার জন্য এটা কতটা বেদনাদায়ক।'

সালাহউদ্দিনের মতে, ক্রিকেটারদের সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণা দেওয়া সত্ত্বেও দিনশেষে এটি তাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, 'আমি তো জানি আমার দুই ক্রিকেটার কোমাতে চলে গিয়েছিল। তাদেরকে আমরা যে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, এটাই বেশি। ওরা মাঠে এসে আবার রান করেছে।'

এই ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মানসিক প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্য ও তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।