ইশরাক হোসেনের স্পষ্ট ঘোষণা: বিসিবির শীর্ষ পদে যাবেন না, রাজনীতিতে থাকবেন
ইশরাক হোসেন: বিসিবির শীর্ষ পদে যাবেন না

ইশরাক হোসেনের স্পষ্ট ঘোষণা: বিসিবির শীর্ষ পদে যাবেন না, রাজনীতিতে থাকবেন

ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির শীর্ষ পদে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না। ব্রাদার্স ইউনিয়নের মালিক ও বিসিবি কাউন্সিলর ইশরাক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার ভবিষ্যৎ পূর্ণ সময়ের রাজনীতিতে নিবেদিত থাকবে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আলোচনা

ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বিসিবি বোর্ড নির্বাচনের সময় তাকে ঘিরে যে আলোচনা হয়েছে, তা ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনও বোর্ড পরিচালক হওয়ার দৌড়ে ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘আমি কখনও বোর্ড সদস্য পদে নির্বাচন করার কথা ভাবিনি। কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে আমার নাম ব্যবহার করেছে এবং বলেছে আমি পরিচালক হিসেবে বোর্ডে যেতে চাই।’

রাজনীতিতে পূর্ণ সময়ের প্রতিশ্রুতি

ইশরাক আরও বলেন, ‘আমার সময় নেই। আমি পূর্ণ সময় রাজনীতিতে যুক্ত থাকব। আমি চাই অভিজ্ঞ এবং পূর্ণ সময়ের ক্রীড়া সংগঠকরা এগিয়ে আসুক এবং বোর্ড পরিচালনা করুক। আমরা তাদের সমর্থন দিতে আছি।’ তিনি দেশের ক্রীড়া সংকট শুধু উপরের পরিবর্তনে ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন, ভেতরের সমস্যা সমাধান করতে হবে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রের গভীর সমস্যা চিহ্নিত

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি বলছি না সবকিছু বদলে ফেলতে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যাগুলো আগেই চিহ্নিত হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যা আছে। আর্থিক দুর্নীতির বিষয় আছে এবং আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট জড়িত থাকার অভিযোগও আছে। সব বিষয় একসঙ্গে সমাধান করতে হবে।’ তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য পেশাদার পথ তৈরি করতে কাঠামোবদ্ধ ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচির ওপর জোর দেন তিনি।

বিসিবি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা

গত এক বছরে বিসিবি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচক ছিলেন ইশরাক। তিনি একে বারবার অবৈধ বলেছেন। এখন নতুন সরকারের সময়ে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান। তবে অনিয়মের অভিযোগ যেন উপেক্ষিত না হয়, সেটিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘একজন কাউন্সিলর হিসেবে আমি এই বোর্ডের সঙ্গে বসতে চাই এবং তারা কী করেছে ও তাদের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চাই।’

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও তীব্র অভিযোগ তোলেন ইশরাক। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা রাজনীতিতে ক্যারিয়ার শুরু করে বড় ধরনের দুর্নীতি, ব্যবসা ও পক্ষপাতের মাধ্যমে নিজের লোক বসিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন এটা একজন সরকারি উপদেষ্টার কাছ থেকে এসেছে, তখন আমরা চুপ থাকতে পারিনি।’

বর্তমান বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া

বর্তমান বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য নিয়েও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ইশরাক। তিনি বলেন, ‘এম নাজমুল আমাদের দেশ ও জাতিকে অপমান করেছেন। আমরা এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না। তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি আরও জানান, তামিম ইকবালকে নিয়ে নাজমুলের মন্তব্যের ভঙ্গি গ্রহণযোগ্য নয়। এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।