আসিফ নজরুলের ব্যাখ্যা: বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের, কৃতিত্ব ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের
আসিফ নজরুলের ব্যাখ্যা: বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের

বিতর্কিত বক্তব্যের পর আসিফ নজরুলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও ভুল–বোঝাবুঝির জবাবে আজ তিনি একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথম আলোকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।

বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের ভূমিকা

আসিফ নজরুল তাঁর ব্যাখ্যায় জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের। তিনি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন বক্তব্যে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারেরই সিদ্ধান্ত। তিনি এই বক্তব্যে অটল রয়েছেন এবং গতকালের অনুষ্ঠানে এ নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন।

ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগের প্রশংসা

তাঁর মতে, গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকা চেক প্রদানের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এই স্পর্শকাতর সময়ে তিনি তাদের বদান্যতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যখন সাংবাদিকেরা তাঁকে বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে দুঃখ আছে কি না জিজ্ঞেস করেন, তখন তাঁর মনে হয়েছে যে, এখানে তাঁর বা সরকারের দুঃখের বিষয়টি মূল নয়। বরং ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগই এখানে মুখ্য

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়েরা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরও শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এটা মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।

সাংবাদিক সম্মেলনে আলাপের প্রেক্ষাপট

আসিফ নজরুল স্বীকার করেছেন যে, গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপের সময় বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা ছিল। তিনি আবারও দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতটা সহজ হতো না।

তাঁর এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে সরকারের ভূমিকা মুখ্য হলেও, ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সহযোগিতা ও আত্মত্যাগই এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য করেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের দেশপ্রেমিক মনোভাবের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।