পিএসএল ফাইনালে ঐতিহাসিক জয়
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে জয়ের মাধ্যমে অবশেষে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা জিতলেন বাবর আজম। রোববার রাতে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে হারায় হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে। গত মৌসুমে পেশোয়ারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক; দলটি তাদের ইতিহাসে প্রথমবার প্লে-অফে উঠতে পারেনি। ২০২২ সাল থেকে নেতৃত্ব দিলেও বাবর তখনও কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও সাফল্য ছিল না। তবে এবার তিনি দলকে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেন, যা তার অধিনায়কত্বে প্রথম পিএসএল ফাইনাল জয়ের কৃতিত্ব।
বাবরের প্রতিক্রিয়া
ফাইনালের পর ট্রফি হাতে বাবর বলেন, 'ভাগ্যে যা লেখা থাকে তা একসময় না একসময় পাওয়া যায়—শুধু ধৈর্য্য ধরতে হয় এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।' যদিও মাঠে তার কৌশল নিয়ে সমালোচনা ছিল, ব্যাট হাতে তিনি দারুণ ফর্ম দেখান। আগের আসরে ১০ ম্যাচে মাত্র ২৮৮ রান করে ছন্দ হারিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের পিএসএলে তিনি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স
সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতা ও ফর্মহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এই আসরে বাবর সব সংশয় দূর করেছেন। ১২ ইনিংসে ১৪৫.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৫৮৮ রান করে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন, যা আগে করেছিলেন ফখর জামান। এবার তিনি দুটি সেঞ্চুরিও করেন। কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫২ বলে শতক হাঁকিয়ে নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন এবং উসমান খানের সঙ্গে যৌথভাবে পিএসএলে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাবর বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারলেও সময় নিয়ে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি উন্নতি করেছেন। পরিবার, বন্ধু ও কোচদের সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। জীবনকে তিনি রোলার কোস্টারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা থেকেই শেখা যায়। টি-টোয়েন্টিতে ফর্মে ফেরার পর তিনি আবার তিন ফরম্যাটেই খেলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, লাল বলের ক্রিকেট একজন ব্যাটারের ধৈর্য্য ও দীর্ঘ সময় ব্যাট করার সক্ষমতা বাড়ায়, যা সাদা বলের ক্রিকেটেও কাজে লাগে।



